লেবাননে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরের উত্তরের আল-বাকবুক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও একজন নারীর মরদেহ আটকা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারীরা। একই সময়ে নাবাতিয়েহ জেলার সেয়ার আল-গারবিয়া এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় নিহত হন অন্তত নয়জন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।
এছাড়া রাশায়া আল-ওয়াদি জেলার আল-রাফিদ শহরে একটি বাড়িতে ভোরের হামলায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হন। আল-শাহাবিয়া এবং আল-হাউশ এলাকাতেও পৃথক হামলায় হতাহত হয়েছে। টাইর জেলার দেইর কানুন এন-নাহর এলাকায় রাতভর হামলায় একটি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং নিহত হন চারজন।
শনিবার রাতে কফর এলাকায় আহতদের উদ্ধারে যাওয়া ইসলামিক হেলথ অথরিটির একটি সিভিল ডিফেন্স টিমকেও লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে উদ্ধারকর্মীদের কয়েকজন আহত হন।
টাইরের হিরাম হাসপাতালের পাশেও ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। এতে হাসপাতালটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার সময় সেখানে প্রায় ৪০ জন রোগী ছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজন আইসিইউতে ছিলেন। সতর্কতা জারির পর দ্রুত তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় হাসপাতালের অন্তত ২৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
শুক্রবার (২২ মে) রাত থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। টাইর, বুর্জ রহাল, নাবাতিয়েহ ও মারজাইউন জেলার বেশ কয়েকটি শহরকে নতুন করে বিপদ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের বিরানিত সামরিক ঘাঁটিতে দুটি আয়রন ডোম লঞ্চারে হামলা চালিয়েছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের প্রধান নাঈম কাসেমের কাছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে তেহরান জানিয়েছে, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত গোষ্ঠীগুলোর প্রতি, বিশেষ করে হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে যে নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতেও লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ শহরের একটি সেনা ব্যারাকে ইসরায়েলি হামলায় একজন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, লেবানন সীমান্তের কাছে শুক্রবার তাদের এক সেনা নিহত হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ঘোষিত বিপদসীমার কাছাকাছি এলাকায় আতঙ্কে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘর ছাড়ছেন মানুষ। অনেকেই জানেন না কবে তারা আবার নিজেদের ঘরে ফিরতে পারবেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে তিন হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২৩ জন চিকিৎসাকর্মী, ২১০ শিশু ও প্রায় ৩০০ নারী রয়েছেন। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে।