যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনির্দিষ্টকালের’ অবরোধের হুমকি, কী হবে ইরানের কৌশল?

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুরোপুরি অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর দেশটির বন্দরগুলোতে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ নৌ অবরোধ বজায় রাখা এবং নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামরিক বাহিনীতে তৈরি হয়েছে গভীর সংকট। একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র আসলে কত দিন এই নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে পারবে, আর ইরানই-বা কী কৌশলে এর মোকাবিলা করছে?

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ পানামা সফরকালে সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যে নৌবাহিনীর উপস্থিতি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে রেখে ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ বজায় রাখতে সক্ষম মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ইতিহাসে বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি- এমন কঠোর পদক্ষেপ আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধের মাধ্যমে ইরানের সব ধরনের বাণিজ্য পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা।

তবে ওয়াশিংটনের এই হুঙ্কার ও দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করলেও পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখনো অবরুদ্ধ রয়েছে ও ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত তা খোলা হবে না।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল নৌবাহিনীর পরিচালনা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এই পরিস্থিতির দায়ে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে ‘সম্পূর্ণ অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতটি এখন অপ্রতিসম অর্থনৈতিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। তেহরানের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম আল জাজিরাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে পরাস্ত করতে ইরান এই অর্থনৈতিক সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিকে প্রধান হাতিয়ার করেছে।

অন্যদিকে, কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেহরান কামরাভা মনে করেন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইরান মূলত ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো শক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো তেহরানকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখ পড়তে হচ্ছে না, যা মার্কিন অবরোধের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *