জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকায় ইশরাত জাহান মিমি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সংস্থাটির দাবি, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অর্থসংক্রান্ত বিরোধ ও পারস্পরিক টানাপোড়েনের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. কাউসার আহমেদ খান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে পিবিআই।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর শহরের জিয়া কলেজ মোড় এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গত ২৩ আগস্ট সকালে জামালপুর সদর উপজেলার পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেটসংলগ্ন বাবুল মিয়া বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলার পূর্ব পাশের একটি কক্ষ থেকে ইশরাত জাহান মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পিবিআই জামালপুরের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও ছায়াতদন্ত শুরু করে।
এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. মুক্তা বেগম বাদী হয়ে কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআই জামালপুর তদন্তের জন্য গ্রহণ করে।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ আগস্ট বিকেল পৌনে ৬টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার বাগেরহাটা এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাউসার বাগেরহাটা এলাকার বাসিন্দা।
পিবিআই জানায়, তদন্ত ও আসামির দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে কাউসারের মালিকানাধীন রাফি স্টোরে কেনাকাটার সূত্রে মিমির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআই জানায়, আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, মিমি বিভিন্ন সময় কাউসারের কাছ থেকে অর্থ নিতেন। একপর্যায়ে এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। ঘটনার দিন মিমি কাউসারকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে পাঠান এবং টাকা দাবি করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে কাউসার মিমির গলা চেপে ধরলে তার মৃত্যু হয় বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত এবং আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনার একটি সুস্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন করে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।