মানবতাবিরোধী অপরাধ জুলাইয়ে হাসিনার দমন-নিপীড়নে ‘সায় দেওয়া’ ইনুর রায় আজ

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা, শেখ হাসিনার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে দমন-নিপীড়নে সহায়তা ও উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর রায় আজ ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ বেলা দেড়টার পর এ রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এ মামলায় হাসানুল হক ইনু একমাত্র আসামি।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার তরাফদার, প্রসিকিউটর মীজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ, প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার পালোয়ান প্রমুখ। অপরদিকে হাসানুল হক ইনুর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন আহসান।

কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত

প্রসিকিউশন জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর একমাত্র আসামির ইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। এতে ২০ জনকে সাক্ষী রাখা হয়। তবে দশজন সাক্ষী দিয়ে এ মামলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ হলো—

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, হাসানুল হক ইনু ক্ষমতাসীন ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাসদের প্রধান হিসেবে ঊর্ধ্বতন অবস্থানে থেকে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক ‘মিরর নাউ’ নামে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে আন্দোলন দমন এবং আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আন্দোলনকারীদের ‘বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক’ ট্যাগ দেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি দেন।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ও জাসদ প্রধান হাসানুল হক ইনুর উপস্থিতিতে ১৪-দলীয় জোটের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী সেনা মোতায়েনপূর্বক কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনরত নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনের জন্য সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। আর ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী সেনা মোতায়েন করে নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তা সরকার কার্যকর করে। এই নির্দেশ প্রদানের সঙ্গে হাসানুল হক ইনু তার ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বাস্তবায়নের নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানি দিয়েছেন এবং সহায়তা করেছেন।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ইনু ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে তার নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়ন ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সে সঙ্গে আগের নির্যাতনকে অনুমোদন করেন। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপারের অধীনস্ত পুলিশ বাহিনী ও ১৪-দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এই গুলিবর্ষণে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, বার্মিজ গলিতে সুরুজ আলী বাবু, হরিপুরগামী রাস্তা আড়ংয়ের সামনে শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, তুলাপট্টির গলিতে ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত দিকে রাস্তার ওপর চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। আর রাইসুল হকসহ অসংখ্য নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা আহত হয়। অনেককে আটক করে নির্যাতন করা হয়।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, ইনু সার্বক্ষণিক শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে লেথাল উইপন ব্যবহার করে আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে আন্দোলনকারীদের ঘেরাও করে ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি ও বোম্বিং করে হত্যা, আটক ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও উসকানি দেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি ২০২৪ সালের ২০ জুলাই আন্দোলন দমনে লেথাল উইপন ব্যবহার, আন্দোলনকারীদের ঘেরাও করে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বোম্বিং ও ছত্রীসেনা নামিয়ে হত্যা, আন্দোলন দমনে গুলিবর্ষণসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে উক্ত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র ও সহায়তায় সম্পৃক্ত ছিলেন।

পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ২৭ জুলাই ইনু আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী, জঙ্গি ইত্যাদি ট্যাগ দিয়ে নিউজ২৪ চ্যানেলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। সে সঙ্গে সরকারের কারফিউ জারি করে লেথাল উইপন ব্যবহার ও হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন।

ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সভায় হাসানুল হক ইনু নিজে উপস্থিত থেকে আন্দোলনকে দমন ও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আন্দোলনকারীদের ‘বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক’ ট্যাগ দেন। ইনু একটি প্রবীণ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের মাধ্যমে বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানি দেন এবং সহায়তা করেন। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগসহ ১৪-দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারদের পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে বৈধতা দেয়।

সপ্তম অভিযোগে বলা হয়, হাসানুল হক ইনু সার্বক্ষণিক শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আন্দোলন দমনে কারফিউ জারি করে দেখামাত্র গুলি করে হত্যা, লেথাল উইপন ব্যবহার করে আন্দোলন দমনে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে গুলি করে হত্যা, আটক ও নির্যাতনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি ও নির্দেশ দিতে থাকেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি ৪ আগস্ট আন্দোলন দমনে কারফিউ জারি করে গুলিবর্ষণসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন। সে সঙ্গে তা কার্যকর করার জন্য শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে ষড়যন্ত্র ও সহায়তায়ও সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তার অধীনস্থ ও নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।

অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট জনতা কুষ্টিয়ার চৌড়হাস থেকে মজমপুরের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে অগ্রসর হতে চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাদের নির্দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলি চালায়।

অডিও রেকর্ডে হত্যা, নির্যাতন ও জামায়াত-শিবিরের মেরুদণ্ড ভাঙার পরামর্শ ইনুর

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিলকৃত ডকুমেন্টে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে একটি কল রেকর্ড জমা দেওয়া হয়। সেখানে দেখা যায়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের একটি রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। রেকর্ডটি জুলাই আন্দোলনের সময়কার। ৫ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের অডিওটিতে হাসানুল হক ইনু শেখ হাসিনাকে বলেন, আপনার ডিসিশনটা খুবই কারেক্ট হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি একটু দয়া করে অ্যারেস্ট করে ফেলতে বলেন সবাইকে। তাহলে আর মিছিল করার লোক থাকবে না। এ সময় শেখ হাসিনা ইনুর কথায় সম্মতি দিয়ে বলেন ‘আমরা রণক্ষেত্রের সাথি’।

ইন্টারনেট চালুর আহ্বান জানিয়ে জাসদের এই নেতা বলেন, ইন্টারনেট চালু করতে বলেন। এটা আমাদেরই কাজে লাগবে। কারণ, আমরাও সমস্যা পড়ছি। যদি ইন্টারনেট থাকে, তাহলে নিউজ দিয়ে মিডিয়া ফ্ল্যাড করে দিতে পারব। এ সময় হাসিনা বলেন, কীভাবে ইন্টারনেট চালু করব? ওরা ইন্টারনেট পুড়িয়ে দিয়েছে। ইন্টারনেট আমি আর চালু করতে পারব না। অন্য সরকার এসে করলে চালু করবে। এ সময় ইনু বলেন, বাংলাদেশে আর অন্য সরকার আসবে না। জামায়াত-শিবিরকে ধরার পরামর্শ দিয়ে ইনু বলেন, জামায়াত-শিবির আবারও এক্সপোজড হয়েছে। এই সুযোগে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। ইনু পরামর্শ দেন শিবিরের তালিকা করে সবগুলোকে ধরে ফেলতে, যাতে সায় দেন শেখ হাসিনা। এর আগে ইনু বলেন, এখন পর্যন্ত যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার সবগুলোই ঠিক আছে। অপর একটি অডিও ফোনালাপে হেলিকপ্টার থেকে বোম্বিং করার বিষয়ে শেখ হাসিনাকে কথা বলতে শোনা যায়।

শর্টগানের গুলির পর বলি, ভাই আমার লাশ যেন বিজয় মিছিলে যায়, দাফন যেন না করা হয়

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ায় মিছিলে অংশ নিয়ে গুলিতে আহত রাইসুল হক তার জবানবন্দিতে বলেন, আমার নাম রাইসুল হক। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ২৬ বৎসর। আমার বাড়ি মেহেরপুরে। আমি ঘটনার সময় কুষ্টিয়ায় কাস্টম মোড় সংলগ্ন এলাকায় একটি মেসে ছিলাম। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা কোটা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’, ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে গালি দেয়, ওইদিন রাত ১১-১২টার মধ্যে আমরা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের আশপাশে মিছিল করি। ১৬ জুলাই আবু সাঈদ শহীদ হন। ওইদিন আমরা কুষ্টিয়া শাপলা চত্বর থেকে মজমপুরের দিকে কয়েক হাজার ছাত্রজনতা মিলে মিছিল বের করি। মিছিলের সময় আমরা পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বাধার সম্মুখীন হই। এরপরও আমরা মিছিল শেষ করি। পরবর্তীতে ১৮ জুলাই ডিসি কোর্টের সামনে মোড়ে আমরা যখন ৩০০-৪০০ জন একত্রিত হই তখন পুলিশ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের হামলার শিকার হই। তারপর আমরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাই। পরবর্তীতে যখন আমরা একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ওপর টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তখন আমার কপালের ঠিক মাঝখানে শর্টগানের গুলি লাগে। (সাক্ষী এ পর্যায়ে তার কপালের মাঝখানে শটগানের গুলি লাগার চিহ্ন প্রদর্শন করেন)। যখন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তখন আমার মুখ থেকে একটি কথাই বের হচ্ছিল, ‘ভাই আমার লাশ যেন বিজয় মিছিলে যায়, লাশ যেন দাফন না করা হয়।’

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কথাটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ১৮ তারিখের পরে আমরা আর একত্রিত হতে পারি নাই। আমি নিজে জীবন রক্ষার জন্য চার মাস মেহেরপুর জেলার গাংনী থানাধীন আমার নিজ বাসস্থানে আত্মগোপনে ছিলাম।

২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহত হওয়ার আশঙ্কায় ও ভয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় আমি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জিডি করি। আমি আন্দোলনরত ছাত্র জনতার পক্ষে ফেসবুক আইডি হতে আন্দোলনরত ছাত্রদের সমর্থনে ও সরকারের বিপক্ষে বিভিন্ন প্রকার পোস্ট ও কমেন্ট করি। কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকাধীন গোয়ালবাড়ি ট্রাফিক অফিসের পেছনে আমার বাসার সাথে থাকা ফার্নিচারের দোকান আছে। তিনি আমাকে অনেক দিন যাবত চেনেন ও জানেন এবং আমি তাকে একজন সম্মানিত ব্যবসায়ী হিসেবে জানি। উক্ত ঘটনা সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এই আমার জবানবন্দি।

নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনে আদেশ, উসকানির তথ্য

জবানবন্দিতে ইনুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৪৫ বৎসর। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় উপ-সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর মহোদয় তদন্ত সংস্থার কনফারেন্স রেজিস্টারের ক্রমিক নং ১৬২, ২৫/০৩/২০২৫ মামলাটি তদন্তের জন্য আমার নামে হস্তান্তর করলে আমি তদন্তভার গ্রহণ করি। তদন্তকালে তানভীর হাসান জোয়া, বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর, আমাকে সহায়তা প্রদান করেন। তদন্তভার গ্রহণ করে তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান এবং কো-অর্ডিনেটর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চৌধুরীর সার্বিক সহযোগিতায় ও নির্দেশনায় মামলার সংশ্লিষ্ট উপাত্ত বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত প্রকাশিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিটিভি, মিরর নাও, মিরর নিউজ, আরটিভি, চ্যানেল ২৪, এমটিভিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ পূর্বক পর্যালোচনা করি। ঘটনাকালীন সময়ে ঘাতক কর্তৃক প্রকাশিত ও সম্প্রচারিত ভিডিও চিত্র ও পত্রপত্রিকা সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করি। তদন্ত সংস্থার সংরক্ষিত ঘটনাকালীন সময়ে নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনে আদেশ, নির্দেশ, উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিবৃতি, লিফলেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট এবং মন্তব্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ব্যক্তিদের পরিবার, পরিজন, জখমপ্রাপ্ত জুলাই যোদ্ধাসহ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করি। পত্রপত্রিকা, ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করি। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিকট হতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সম্বলিত প্রতিবেদন সংগ্রহ করি। সংগৃহীত আলামত পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রেরণ করি এবং মতামত গ্রহণ করি।

প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশ ও উসকানিতে গুলিবর্ষণে হত্যাকাণ্ড

ট্রাইব্যুনালে ইনুর মামলায় হালিমা খাতুন নামের পুলিশের কর্মকর্তা তার জবানবন্দিতে বলেন, আমি বর্তমানে এবং ঘটনাকালীন কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানাধীন দশমাইল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। বর্তমান মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোয়া, প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, আমি আমার বক্তব্য প্রদান করি। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট এ মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছিল। ওই সকল সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ এবং স্থিরচিত্রের লিংক বা উৎস পর্যালোচনা করে জানা যায় যে, আন্দোলন দমন করার জন্য এবং নিরীহ ছাত্র-জনতার আন্দোলন নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে বিগত সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও কতিপয় অতি উৎসাহী কর্মকর্তা ও সদস্য কর্তৃক বেআইনি জনতাবদ্ধে গুলি বর্ষণ, গুলিবর্ষণের আদেশ এবং উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিবৃতি প্রদান করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল। উক্ত ভিডিও ফুটেজ এবং তথ্যাদি যাচাইয়ের অংশ হিসেবে আমি কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানাধীন দশমাইল এলাকায় ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখের সহিংসতার ঘটনাটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সবিস্তারে বর্ণনা করি। ওইদিন আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর কতিপয় উগ্র সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আক্রমণ চালায়। এ আক্রমণে বহু ছাত্র-জনতা আহত হন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়

পুলিশ কর্মকর্তা শাহিদা খাতুন তার জবানবন্দিতে বলেন, আমি ঘটনার সময়কার তদন্তকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পাই যে, জুলাই বিপ্লবের সময় নিরীহ ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের নীতি-নির্ধারকরা বেআইনি ও বর্বরোচিত বল প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিভিন্ন টকশো, সাক্ষাৎকার এবং প্রেস ব্রিফিংয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়েছিল, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় অতিউৎসাহী সদস্য সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়। এ ছাড়াও তদন্তকারী কর্মকর্তা মহোদয়কে আমি মিরপুর মডেল থানা এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ প্রদান করি, যা আমি কর্তব্যরত অবস্থায় অথবা বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছিলাম। আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি বর্ষণের ফলে অসংখ্য ছাত্র মারাত্মকভাবে আহত ও শহীদ হন। সংগৃহীত আলামত এবং ভিডিও ফুটেজ আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করি।

চোখের সামনে সহপাঠী ও সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে তৌকির আহমেদ নামের আন্দোলনকারী বলেন, আমি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের একজন নিয়মিত ছাত্র এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন কোটা সংস্কারের দাবিতে সারা দেশের ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে আসে, তখন আমরা কুষ্টিয়ার সাধারণ ছাত্ররাও একাত্মতা প্রকাশ করি। ১৬ জুলাই কুষ্টিয়া শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার বিশাল মিছিলে আমি অগ্রভাগে ছিলাম। মিছিলটি যখন মজমপুর মোড়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন পুলিশ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা লাঠিসোঁটা, টিয়ারশেল এবং এক পর্যায়ে শর্টগানের গুলি বর্ষণ করে। আমাদের চোখের সামনে বেশ কয়েকজন সহপাঠী ও সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ১৮ ও ১৯ জুলাই ডিসি কোর্টের সামনে এবং শহরের বিভিন্ন গলিতে আমাদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। আন্দোলন দমাতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হাসানুল হক ইনুর সরাসরি উসকানি ও নির্দেশ ছিল বলে আমরা জানতে পারি। এ ঘটনায় অসংখ্য ছাত্র-জনতা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অনেকে শহীদ হয়েছেন।

পুলিশের নির্বিচার গুলি, আওয়ামী ক্যাডাররা অস্ত্র নিয়ে চড়াও

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে ফরহাদ হোসেন নামের এক আন্দোলনকারী বলেন, আমি পেশায় অটোমোবাইল মেকানিক ও ‘ক’ শ্রেণির নাগরিক। ঘটনার সময় আমি কুষ্টিয়া সদর থানার মোড় এলাকায় সৌহার্দ্য অটোমোবাইল নামের একটি ওয়ার্কশপে কাজ করছিলাম। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মজমপুর মোড়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা অবস্থান করি। সেখানে ছাত্ররা মিছিল করতে করতে শহর অভিমুখে অগ্রসর হয়। মিছিলটি থানা মোড়ে আমাদের দোকানের সামনে যখন পৌঁছায়, পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমি তখন দোকানের শাটার বন্ধ করতে গিয়েছিলাম। তখন দেখতে পাই পুলিশ নির্বিচারে গুলি ছুঁড়ছে এবং স্থানীয় কতিপয় চিহ্নিত আওয়ামী নেতাকর্মী ও যুবলীগের ক্যাডাররা ছাত্রদের ওপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়েছে। এ সময় আমার দোকানের সামনে কয়েকজন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যায়। আমি তখন কয়েকজন ছাত্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করি। তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিউৎসাহী কতিপয় সদস্য এবং বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রভাবশালীদের অন্যায় আদেশ ও উসকানির কারণেই এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় বহু নিরীহ ছাত্র-জনতা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অনেকে শহীদ হয়েছেন।

ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলন দমনে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আবদুল্লাহ-আল-মামুন নামের এক কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের জবানবন্দিতে বলেন, মামলার তদন্তকালে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত প্রকাশিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিটিভি, মিরর নাও, মিরর নিউজ, আরটিভি, চ্যানেল ২৪, এমটিভিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করি। ঘটনাকালীন স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশিত ও সম্প্রচারিত ভিডিওচিত্র ও পত্রপত্রিকা সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করি। তদন্ত সংস্থার সংরক্ষিত ঘটনাকালীন নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনে আদেশ, নির্দেশ, উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিবৃতি, লিফলেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট এবং মন্তব্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করি। ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ঘটনার সঙ্গে কতিপয় ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক নেতার প্রত্যক্ষ উসকানি ও সম্পৃক্ততা ছিল, যা সাধারণ ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলন দমনে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।

মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহতের ঘটনা এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথনের অডিওতে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়ন ও হত্যায় উসকানি দিয়ে ষড়যন্ত্র, সহায়তার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ মামলার তদন্ত শুরু হয়। ওই বছর ১১ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে গত বছরের ২ নভেম্বর এ মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে তার বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে দশজন এবং আসামিপক্ষে দুজন সাফাই সাক্ষী দেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য মতে, মামলাটির তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ৩ মার্চ। পরে তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চার্জ গঠন করা হয়। চলতি বছরের ১৩ মে যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *