রাজধানীর গুলশানের বারিধারা ‘কে’ ব্লক এলাকায় ময়লার ডিপোর ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে গুলির ঘটনায় মামলার এজাহারনামীয় চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। এ মামলার অজ্ঞাতনামা বাকি আসামিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলমান বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান।
আজ রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ওই মামলায় এজহারনামীয় সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কারও বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার হবে।
গত ২০ জুলাই বান্দরবান সদর উপজেলার আর্মিপাড়া এলাকার একটি রিসোর্টে র্যাব-১ ও র্যাব-১৫ এর যৌথ অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—মো. হেলাল মিয়া (৪০), সৈয়দ এনামুল হক লাবু (৪৬) ও মোশারফ হোসেন (৩৩)। পরবর্তীতে রকতুল্লাহ শুভ (২২) নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান।
গত ২০ জুলাই রাতে র্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম জানান, গত ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান থানার কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে একটি পিকআপে করে ময়লা নিয়ে বারিধারা ‘কে’ ব্লকের একটি ডিপোতে যান শ্রমিক তৌহিদ (৩৮)। এ সময় চারটি মোটরসাইকেলে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। প্রাণ বাঁচাতে গাড়ির নিচে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে তৌহিদের পায়ে গুলি লাগে। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল) এ ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ তৌহিদের ভাই শহীদ মিয়া গুলশান থানায় বরকতুল্লাহ শুভ, হেলাল, লাবু, মোশারফসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীরা গুলি চালানোর পাশাপাশি সেখানে কর্মরত কয়েকজনকে মারধর করে এবং ময়লার ডিপোতে কাজ করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম জানান, ঘটনার পর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বান্দরবানের একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।