ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ

ভূমি মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব প্রশাসনে কর্মরত বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য পুনরায় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী আবশ্যিকভাবে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৪ অধিশাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব প্রশাসনে কর্মরত কানুনগো, সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা, প্রসেস সার্ভার, অফিস সহায়ক, চেইনম্যান ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল অফিস এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সব কর্মচারীর সম্পদের হিসাব নির্ধারিত ছকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য পূর্বে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদধারীদের এ তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি চাকরিতে কর্মরত কর্মকর্তাদের সম্পদ অর্জন ও আর্থিক অবস্থার তথ্য নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব প্রশাসনে কর্মরত কানুনগো, সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী এখনও পাওয়া যায়নি।

ফলে সংশ্লিষ্ট সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রেরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্পদের বিবরণী দাখিলের বিষয়টি সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রেরণ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

স্মারকে নির্দেশক্রমে বলা হয়েছে, পূর্বে জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্ধারিত ছকে সম্পদের হিসাব প্রস্তুত করে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে অবশ্যই ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে।

এ নির্দেশনার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের ভূমি প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ ও কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণের কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *