আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে পরিবারের সঙ্গে যোগ দিতে কর্মস্থল ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই ঢাকার প্রবেশ ও বাহিরের সংযোগ সড়কগুলোতে ঘরমুখী মানুষের চিরচেনা ব্যস্ততা লক্ষ করা গেছে। দুপুরের পর থেকে ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-টাঙ্গাইলমুখী মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসের পাশাপাশি এবারও বিপুল সংখ্যক মানুষকে মোটরসাইকেল ও ট্রাকে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে। তবে দুপুর ১২টার দিকে আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন খোলা ট্রাক ও মোটরসাইকেলে থাকা যাত্রীরা।
ঢাকা জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই, প্রশাসন-উত্তর) মোহাম্মদ রুহুল আমীন সোহেল জানান, দুপুরের পর থেকে সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরণের কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
এই ট্রাফিক কর্মকর্তা আরও জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে শুরু করে নবীনগর পর্যন্ত যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে, ফলে এই অংশে গাড়ি চলছে স্বাভাবিক গতিতে। তবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার রাস্তার অবস্থা বেশ বেহাল। এর ফলে বাইপাইল থেকে চন্দ্রা অভিমুখে যানবাহনগুলোকে কিছুটা ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে।
ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ঢাকা জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘরমুখী মানুষের যাত্রা সহজ করতে তারা শুরু থেকেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সড়ক ও মহাসড়কের যানজট পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে কন্ট্রোল রুম থেকে সিসি (আইপি) ক্যামেরার মাধ্যমে ডিজিটাল নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা বা জটলা তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।