হাকান শুকুরের ‘সুপারসনিক’ গোলের রেকর্ড
গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ১১ দিন। বিশ্বমঞ্চের লড়াই শুরুর কাউন্টডাউন যত কমছে, ফুটবলপ্রেমীদের মনে জমা হওয়া রোমাঞ্চ ততই বাড়ছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ‘১১’ সংখ্যাটির সাথে জড়িয়ে আছে তুরস্কের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার হাকান শুকুরের এক অবিশ্বাস্য ও অতিমানবীয় রেকর্ড।
২০০২ বিশ্বকাপে পুরো তুরস্ক দল স্বপ্নের মতো ফুটবল খেললেও, তাদের মূল তারকা ও অধিনায়ক হাকান শুকুর যেন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপে টানা ৬টি ম্যাচে মোট ৮ ঘণ্টা ২২ মিনিট গোলহীন ছিলেন তিনি।
অফ-ফর্মের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে তাকে মূল একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে—এমন জোর গুঞ্জনও উঠেছিল। তবে সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে ৩০ বছর বয়সী অধিনায়কের ওপর ভরসা রাখেন কোচ সেনোল গুনেস। আর শুকুরও কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে সময় নিয়েছিলেন মাত্র ১১ সেকেন্ড!
মজার বিষয় হলো, সেই ম্যাচে তুরস্ক তখনও বলে নিজেদের প্রথম লাথিটাই (কিক-অফ) মারেনি! রেফারি বাঁশি বাজানোর পর স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সেন্টার স্পট থেকে ব্যাক-পাস দেয়। ঠিক তখনই তুরস্কের ফরোয়ার্ড ইলহান মানসিজ চিতার বেগে ছুটে গিয়ে কোরিয়ান ডিফেন্ডার হং মিউংবোর কাছ থেকে বল কেড়ে নেন।
এরপর ডি-বক্সের সামনে থাকা শুকুরের দিকে বল বাড়ান তিনি। হাকান শুকুর অত্যন্ত নিখুঁত ও আলতো ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোরিয়ান গোলরক্ষক লি উনজেকে পরাস্ত করেন।
ডিজিটাল ঘড়ির কাঁটা তখন মাত্র ১১ সেকেন্ড ছুঁয়েছে। এই অবিশ্বাস্য গোলটি তুরস্ককে ম্যাচজুড়ে মানসিকভাবে এগিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে টুর্নামেন্ট শেষ করে তুর্কিরা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতে না বাজতেই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানো শীর্ষ ৫ দ্রুততম গোলের তালিকায় হাকান শুকুরের ওপরে আর কেউ নেই। ১৫ সেকেন্ডে গোল করে এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চেকোস্লোভাকিয়া ভ্যাকলাভ মাশেক।
২৫ সেকেন্ডে গোল করে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন জার্মানির আর্নেস্ট লেহনার। তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের ব্রায়ান রবসন। ২৮ সেকেন্ড গোল করেছিলেন তিনি। তালিকার পাঁচ নম্বরে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিন্ট ডেম্পসি। তিনি গোল করেছিলেন ৩০ সেকেন্ডে।