অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, নাজনীন নিহা ও নির্মাতা জাকারিয়া সৌখিন—এই ত্রয়ীর আগের দুই কাজ ‘মনদুয়ারী’ ও ‘মেঘবালিকা’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে তাদের নতুন নাটক ‘মায়াপাখি’।
নাটকের গল্প শুরু হয় সাদাত ও মায়ার সুখী দাম্পত্য জীবনকে ঘিরে। ভালোবাসায় গড়া ছোট্ট সংসারে দুজনের দিন কাটছিল স্বাভাবিক ছন্দে। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। করপোরেট জগতে প্রবেশের পর মায়ার জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা ও অগ্রাধিকারে আসে বড় পরিবর্তন।
নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব। ছোট ছোট মতবিরোধ একসময় রূপ নেয় ভুল বোঝাবুঝি, অবিশ্বাস ও মানসিক বিচ্ছিন্নতায়। একদিকে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে সাদাত, অন্যদিকে নতুন জীবনের টানে মায়া সরে যেতে থাকে পুরোনো বন্ধন থেকে।
তবে ‘মায়াপাখি’ শুধু দাম্পত্য সম্পর্কের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কাহিনির একপর্যায়ে ঘটে রহস্যজনক একটি ঘটনা। মায়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। সেটি কি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল—এই রহস্যের জট খুলতেই এগিয়ে যায় নাটকের পরবর্তী অংশ।
গল্পের মাধ্যমে সম্পর্ক, ক্যারিয়ার, অহংবোধ ও বিশ্বাসভঙ্গের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। অপূর্ব ও নিহার অভিনয়ও দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
মুক্তির দুই দিনের মধ্যেই সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি ৩২ লাখের বেশি দর্শক দেখেছেন। মন্তব্যের ঘরেও মিলেছে ব্যাপক সাড়া। সাড়ে ৭ হাজারের বেশি দর্শক নাটকটি নিয়ে মতামত জানিয়েছেন।
দর্শকদের একজন মতিউর গাজী লিখেছেন, ‘এই নাটকটা যেসব ঘরের স্ত্রীরা পরকীয়া করে বেড়ায়, তাদের দেখানো উচিত।’ ফয়সাল আহমেদের ভাষায়, ‘মায়াপাখি নাটক হলেও সিনেমার মতো লেগেছে।’ আরিফ লিখেছেন, ‘খুবই বাস্তবসম্মত নাটক। সবার জন্য শিক্ষণীয়।’ আর পাভেল আহমেদের মতে, ‘নাটকের কাহিনি বর্তমানে চারদিকে ঘটছে।’
এ ছাড়া অনেক দর্শকই নাটকটির গল্প বলার ধরন এবং অপূর্বের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে সম্পর্কের ভাঙন ও মানসিক টানাপোড়েনের উপস্থাপন নাটকটিকে দর্শকদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।