বাল্যবিবাহে ঝরেপড়া কিশোরী মা রাবেয়া আবারও ফিরতে চায় ক্রীড়াঙ্গনে

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর এলাকার খয়েরচারা গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যানচালক মামুন হোসেনের ছোট মেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় মোছা. রাবেয়া খাতুন। ছোট বেলা থেকেই সে ফুটবল, কাবাডি, হ্যান্ডবল, উচ্চ লাফ, ব্যাডমিন্টন ও ক্রিকেট খেলায় সমান পারদর্শী। দরিদ্রতাকে উপেক্ষা করে সব বাধা পেছনে ফেলে শীতকালীন জাতীয় শিশু পুরস্কার ২০২২-এর আন্তস্কুল ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

তৎকালিন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরুস্কারও নেয় সে। বিভিন্ন খেলায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জিতেছে অসংখ্য পুরস্কার। কিন্তু বাল্যবিবাহের কারণে এখন তার ভবিষ্যৎ শুধুই অন্ধকার।

১৫ বছর বয়সে তেবাড়ীয়া শেরকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করা অবস্থায় রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার রওশানের সঙ্গে সম্পর্ক করে রাবেয়া। কিন্তু কিছুদিন সংসার করার পর প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যায় তার। এরপর টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ে পাংশা উপজেলার তুহিনের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আসে ফুটফুটে কন্যাশিশু তমা। সেই সংসারও বেশিদিন টেকেনি। দ্বিতীয় স্বামী তুহিন আরেকটি বিয়ে করায় সেই সংসারেরও সমাপ্ত হয়।

বর্তমানে আঁড়াই মাসের কন্যাশিশু তমাকে নিয়ে অসুস্থ ভ্যানচালক বাবার ঘরে চরম কষ্টে দিন কাটছে। বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ তাই রাবেয়ার মা ফরিদা খাতুন পরের বাড়ি গৃহপরিচারিকার কাজ করে কোনো রকমে চালাচ্ছেন সংসার। বাল্যবিবাহের কারণে আজ রাবেয়ার জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। এখন সে তার ভুল বুঝতে পেড়েছে। তাই সে আবার লেখাপড়ার পাশাপাশি ফিরতে চায় খেলার মাঠে। স্বপ্ন পূরণে সবার সহযোগিতা চেয়েছে রাবেয়া ও তার পরিবার। এ ছাড়া সবাইকে বাল্যবিবাহ না করার আহ্বান তার।

কুমারখালী  উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক রেজাউর রহমান বলেন, শুধু বাল্যবিবাহের  কারণেই রাবেয়ার মতো একজন হাস্যোজ্জ্বল প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের জীবন আজ অন্ধকারে নিমজ্জিত। তবে রাবেয়া যদি আবার লেখা পড়া এবং খেলায় ফিরতে চায় তাহলে তাকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি। 

সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় রাবেয়া আবারও তার লেখাপড়া ও খেলায় ফিরবে এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *