বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হয়নি সেনোলের। প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে নরওয়ে আর ফ্রান্সের। তবে এখনো কাগজে-কলমে তাদের সামনে বেঁচে আছে নকআউটের আশা। তবে সেজন্য শেষ ম্যাচে জয় তো বটেই, মেলাতে হবে কঠিন সমীকরণ। সেই লক্ষ্যে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামছে আফ্রিকার দেশটি।
টিকে থাকার শেষ লড়াইয়ে আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ইরাকের মুখোমুখি হবে সেনেগাল। ‘আই’ গ্রুপের এই ম্যাচে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই আফ্রিকার দলটির সামনে। শুধু জিতলেই হবে না, শেষ ৩২-এ ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে চাই বড় ব্যবধানের জয়ও।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ‘আই’ গ্রুপ থেকে নকআউটে ওঠার অন্যতম দাবিদার ধরা হয়েছিল সেনেগালকে। তবে ফ্রান্স ও নরওয়ের বিপক্ষে টানা দুই হারে কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছে আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দলটি। প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে ভালো শুরু করেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে রক্ষণভাগের একের পর এক ভুলের খেসারত দিয়ে ৩-২ গোলে হারে সেনেগাল।
বিশেষ করে অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির ভুলগুলো বড় আকারে আলোচনায় এসেছে। নরওয়ের বিপক্ষে ৭২ মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ পাপে থিয়াও। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারকে আবারও একাদশে দেখা যেতে পারে। যদিও বিকল্প হিসেবে আছেন মামাদু সার ও আবদুলায়ে সেক।
দুই ম্যাচ শেষে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর তালিকায় সবার নিচে রয়েছে সেনেগাল। তাই ইরাকের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নেওয়াই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
তবে রক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই তিনটি করে গোল হজম করেছে সেনেগাল। এই সময়ে একমাত্র ক্লিন শিটটি ছিল সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র।
অন্যদিকে, ইরাকও শেষ ৩২-এ ওঠার ক্ষীণ আশা ধরে রেখেছে। যদিও প্রথম দুই ম্যাচে নরওয়ের কাছে ৪-১ এবং ফ্রান্সের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে গ্রুপের তলানিতে রয়েছে দলটি। গোল ব্যবধান মাইনাস ৬ হওয়ায় জয় পেলেও অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের।
ইরাকের জন্য বড় দুশ্চিন্তার নাম আইমান হুসেইন। চোটের কারণে তার খেলা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। বিশ্বকাপে ইরাকের একমাত্র গোলটি এসেছে তার পা থেকেই। তিনি না খেললে আক্রমণভাগে মোহানাদ আলি কিংবা আলি আল-হামাদিকে দেখা যেতে পারে।
সেনেগালের আক্রমণের ভরসা থাকবেন সাদিও মানে, ইসমাইলা সার ও নিকোলাস জ্যাকসন। নরওয়ের বিপক্ষে গোল না পেলেও একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন মানে। আর ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্যর্থতার পর নরওয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন ইসমাইলা সার।
তবে গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডিকে পাচ্ছে না সেনেগাল। নরওয়ের বিপক্ষে হাটুতে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচেও মাঠের বাইরে থাকবেন তিনি।
কাগজে-কলমে এগিয়ে সেনেগালই। বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক শক্তিমত্তার বিচারে আফ্রিকার দলটির জয় পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ম্যাচটি ৩-১ ব্যবধানে সেনেগাল জিততে পারে বলেই পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। তবে সেই জয় নকআউট পর্বে ওঠার জন্য যথেষ্ট হবে কি না, সেটি নির্ভর করবে অন্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
সেনেগাল: দিয়াও, দিয়াত্তা, কুলিবালি, নিয়াখাতে, দিয়ুফ, কামারা, ইদ্রিসা গানা গেই, পাপে গেই, ইসমাইলা সার, নিকোলাস জ্যাকসন, সাদিও মানে।
ইরাক: বাসিল, আলি, তাহসিন, হাশেম, দোস্কি, ইসমাইল, আল-আম্মারি, ইকবাল, কাসেম, আলি আল-হামাদি, বায়েশ।