এমবাপ্পে নাকি হালান্ড, কার হাসি ফুটবে গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে

একদিকে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। অন্যদিকে আর্লিং হলান্ডকে সামনে রেখে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নরওয়ে। বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’ এর শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইউরোপের এই দুই শক্তিশালী দল। শেষ ৩২ নিশ্চিত করলেও ম্যাচটির গুরুত্ব মোটেও কম নয়। কারণ এই লড়াইয়ের ফলেই নির্ধারণ হবে গ্রুপের শীর্ষস্থান। যা নকআউট পর্বের পথকেও প্রভাবিত করতে পারে।

একই সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের গোলের দ্বৈরথ ম্যাচটিকে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে পরিণত করেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় বোস্টনে মাঠে নামছে এমবাপ্পে-হলান্ডরা।

ফ্রান্সের হয়ে নজর থাকবে কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬- তে নিয়ে গেছেন তিনি। এতে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার গোলসংখ্যা স্পর্শ করেছেন ফরাসি তারকা। এবার সামনে রয়েছে আরও নতুন রেকর্ড গড়ার সুযোগ। দলকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার লক্ষ্য থাকবে তার।

অন্যদিকে, নরওয়ের আর্লিং হলান্ডও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর সেনেগালের বিপক্ষেও দুটি গোল করেছেন তিনি। ফলে নিজের প্রথম দুই বিশ্বকাপ ম্যাচেই দুটি করে গোল করার বিরল কীর্তি গড়েছেন এই স্ট্রাইকার।

এবার ফ্রান্সের বিপক্ষেও যদি অন্তত দুটি গোল করতে পারেন। তাহলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম তিন ম্যাচেই জোড়া গোল করা মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হবেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টিনার গিয়ের্মো স্টাবিলে ১৯৩০ সালে এবং হাঙ্গেরির শান্দর কোচিস ১৯৫৪ সালে।

দুই দলই জানে, এই ম্যাচের ফল নকআউট পর্বের পথেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে শেষ ৩২ এ তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে, রানার্সআপ হলে অপেক্ষাকৃত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই দুই দলই পূর্ণ তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।

তবে এই ম্যাচে ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমকে পাচ্ছে না ফ্রান্স। মায়ের মৃত্যুর কারণে তিনি দেশে ফিরেছেন। তার অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী কোচ গি স্তেফাঁ। অন্যদিকে, সেনেগালের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর বেশ কয়েকজন ফুটবলার ক্লান্তি ও চোটে ভুগছেন। ডিফেন্ডার জুলিয়ান রিয়েরসনের ফিটনেস নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। তাই নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাক্কেন একাধিক পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন।

দুই দলের এটি হবে বিশ্বকাপে প্রথম মুখোমুখি লড়াই। সবমিলিয়ে এর আগে ১৬ বার দেখা হয়েছে তাদের। সর্বশেষ ২০১৪ সালে প্রীতি ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে নরওয়ে মাত্র দুইবার জিতেছে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে নরওয়ে এখনো জয়ের দেখা পায়নি। বিপরীতে ফ্রান্স ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচ জিতেছে।

গ্রুপ সেরার লড়াই, নকআউট পর্বের সমীকরণ এবং দুই বিশ্বতারকা এমবাপ্পে ও হলান্ডের গোলের প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে ফ্রান্স ও নরওয়ের এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের অন্যতম সেরা লড়াই হওয়ার সব উপাদানই রয়েছে।

দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ

ফ্রান্স: মাইক মেনিয়াঁ, জুল কুন্দে, ইব্রাহিমা কোনাতে, উইলিয়াম সালিবা, থিও হার্নান্দেজ, অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি, এন’গোলো কান্তে, আদ্রিয়াঁ রাবিও, উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, মার্কাস থুরাম।

নরওয়ে: ওরিয়ান নিল্যান্ড, মার্কাস পেডারসেন, লিও অস্টিগার্ড, ক্রিস্টোফার আজের, ডেভিড মোলার উলফে, মার্টিন ওডিগার্ড, সান্দের বার্গে, প্যাট্রিক বার্গ, অ্যান্টোনিও নুসা, আর্লিং হলান্ড, আলেকজান্ডার সরলথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *