ফের দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ‘ককরোচ পার্টির’

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দায়ের করা মামলা (এফআইআর) প্রত্যাহার না করা হলে এবং কোনো আন্দোলনকারীকে হেনস্তা করা হলে আবারও দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এই হুমকি দিল দলটি। খবর এনডিটিভির।

দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে দায়ের করা কয়েকটি আবেদনের শুনানি করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ। আদালত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক বা কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং পূর্ব কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা আটককৃতদের মুক্তির আদেশ দেন।

তবে আদালত একটি শর্তে বলেন যে, পুলিশ পূর্বের দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে, তবে তা শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না এবং কোনো অপরাধী ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা ব্যক্তি এই সুবিধা পাবেন না।

আদালতের এই রায়ের পর সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, এই আদেশ দেশজুড়ে শঙ্কার কারণ হতে পারে। কারণ, গত ২৫ জুলাই ভারত সরকার দেশের যুবসমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। সরকারের সেই আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই সিজেপি তাদের দেশব্যাপী আন্দোলন স্থগিত করেছিল। কিন্তু এখন তাদের আশঙ্কা, সরকার ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো আদালতের এই রায়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এককভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর হয়রানি চালাতে পারে।

মুখপাত্র সৌরভ দাস আরও বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। সরকার যদি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে এবং মামলাগুলো প্রত্যাহার না করে, তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় ককরোচ জনতা পার্টি আবারও দেশজুড়ে রাজপথে নেমে আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হবে। এর আগে গত সোমবারও দলের আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা একই ধরণের হুঁশিয়ারি দিয়ে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুন থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি লাগাতার আন্দোলন শুরু করে। গত ২০ জুলাই তাদের সংসদ অভিযান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও পেলেট গানের আঘাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যেখানে বহু পুলিশ সদস্যও আহত হন। পরবর্তীতে সরকারের সঙ্গে দুই দফা আলোচনার পর গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সরকারি আশ্বাসের পর সিজেপি তাদের আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *