কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেনকে পার্সেলের মাধ্যমে কাফনের কাপড় ও চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় তার স্ত্রীর মালিকানাধীন ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’-এর ঠিকানায় এস এ পরিবহণের মাধ্যমে পার্সেলটি পাঠানো হয়।
জানা গেছে, পার্সেলটির ভেতরে এক গজ সাদা কাফনের কাপড়, এক বোতল গোলাপ জল, এক প্যাকেট আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট ছিল। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে মো. ফারুক হোসেন ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
কুরিয়ারের চালানে প্রেরক হিসেবে ‘হরিদাস, আশুগঞ্জ’ নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল। অন্যদিকে প্রাপক হিসেবে মো. ফারুক হোসেনের নাম ও তার ব্যক্তিগত নম্বর দেওয়া হয়। দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই দিন বেলা ১২টা ২০ মিনিটে তার ছেলে মুনতাসির মাহমুদ ঈশান পার্সেলটি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাসায় গিয়ে পার্সেলটি খুলতেই কাফনের কাপড়, গোলাপ জল ও আগরবাতির পাশাপাশি একটি চিরকুট বেরিয়ে আসে। চিরকুটে লেখা ছিল—‘আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।’
এই বিষয়ে ভৈরব পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমি চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় সততা, নিষ্ঠা ও সরকারি নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা বিধিবহির্ভূত আবদারকে কখনও প্রশ্রয় দিইনি। সরকারের বিধি রক্ষায় সবসময় কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ধারণা করছি, আমার এই আপসহীন অবস্থানের কারণেই কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। কাফনের কাপড় ও মৃত্যুর হুমকি পাঠানোর মতো ঘটনা শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে গভীরভাবে আতঙ্কিত করেছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পার্সেলের প্রেরক এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।