পশু জবাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধে পশ্চিমবঙ্গে মলিন ঈদ আনন্দ

বিজেপি সরকারের পশু জবাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধে মলিন হয়ে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঈদ আনন্দ। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়। গরুর হাট বন্ধ হওয়ায় এবার কোরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া এবং দুম্বার দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। এই সুযোগে এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এসব পশুর দাম।

মধ্য কলকাতার জাকারিয়া স্ট্রিট এলাকাটি মূলত নাখোদা মসজিদের জন্য বিখ্যাত। শতবর্ষ প্রাচীন এই মসজিদের পাশে প্রতি বছর নিয়ম করে গরুর হাট বসলেও এবার সেখানে বসেছে ছাগলের হাট।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, এমনকি অন্য রাজ্য থেকেও এবার এই হাটে এসেছে নানা প্রজাতির ছাগল ও ভেড়া। এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের নানা প্রজাতির দুম্বাও। যদিও এই দুম্বাগুলোও এখানে প্রজনন ও লালন-পালন করেন ভারতীয় হিন্দুরাই।

এই পশুর হাটে বিক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছেন অনেক হিন্দু বিক্রেতা। তারা বলছেন, এবার পশু জবাই সংক্রান্ত আইনের কারণে গরুর হাট হচ্ছে না। ফলে ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার চাহিদা বেশি। আর সেই কারণেই দামও বেশি। 

গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় বসে বিজেপি। ঠিক তার দু’দিন পরই ১৯৫০ সালের পশু জবাই সংক্রান্ত পুরনো একটি আইন নতুন করে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয় নতুন সরকার। সেই নির্দেশে বলা হয়, ১৪ বছরের কম বয়সি কোনো গরু বা মহিষ জবাই করা যাবে না। এমনকি সরকার নির্দিষ্ট করে দেয়া কসাইখানা ছাড়া প্রকাশ্যে কোনো গরু জবাই করা যাবে না।

এই নির্দেশনার পরপরই অভিযোগ উঠছে, রাজ্যের বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় গরুর হাট না করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ফরমান জারি করেছে।

ঠিক এমন একটি সময়ে এই নির্দেশনা জারি হলো, যখন রাজ্যটির প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের সামনে পবিত্র কোরবানির ঈদ। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে গরুর বদলে ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কোরবানি করবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *