সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ধর্মীয় কীর্তন অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার মইয়ার হাওরের রুয়ারকারা এলাকা থেকে দুজনের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এর আগে, গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার মৃত জগীন্দ্র দেবনাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেবনাথ (৩৫) এবং একই এলাকার মৃত অনিল দেবনাথের ছেলে অধীর দেবনাথ (৩৫)। গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) একই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পূর্ব ভবানীপুর এলাকার মৃত সুবল দেবনাথের ছেলে সত্যেন্দ্র নাথ সতী (৬৫) এবং মৃত অনিল দেবনাথের ছেলে অরুণ দেবনাথের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করে।
গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পূর্ব ভবানীপুর এলাকা থেকে ৯ জন লোক একটি নৌকায় করে পাশের ভরাউট এলাকায় হিন্দু ধর্মীয় কীর্তন অনুষ্ঠানে যান। অনুষ্ঠান শেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে মইয়ার হাওরের বালুচর এলাকায় পৌঁছে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও চারজন নিখোঁজ হন।
পরের দিন শনিবার দিনভর সুনামগঞ্জ ও সিলেট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। আজ রোববার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় মইয়ার হাওর থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ বাকি দুজনের মরদেহ।
ঘটনার পর জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। খবর পাওয়ার পর পরই নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিদলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।