নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ২৮৯, নিখোঁজ হাজারের বেশি

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে তৈরি হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৮৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিদেশি নাগরিক ও তীর্থযাত্রীসহ ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুর্যোগ কবলিত এলাকাগুলো থেকে শত শত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নেপালভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি।

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ধসে যাওয়া এলাকাগুলোতে নিখোঁজ শত শত মানুষের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, জীবন বাঁচাতে পালানোর চেষ্টাকালে ভেসে যাচ্ছে মানুষ, ভেঙে পড়ছে বাড়িঘর ও সেতু। বৃহস্পতিবার নেপাল থেকে ড্রোন ফুটেজে উঠে এসেছে এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অঞ্চলের খাড়া উপত্যকাগুলো অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ও যোগাযোগের মূল পথ হলেও দুর্যোগের মুখে এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রলয়ঙ্কারী স্রোত বয়ে যাওয়ার পর নুয়াকোটের একাধিক ভবনের দোতলা পর্যন্ত কাদার আস্তরণে ঢেকে থাকতে দেখা গেছে। গাছের ডালপালা ও তারে ঝুলে আছে ধ্বংসাবশেষ, কাদার নিচে চাপা পড়েছে যানবাহন। কাদা মেখে স্তম্ভিত হয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে কতিপয় বেঁচে যাওয়া মানুষকে। এই বন্যার কারণে বেশ কিছু এলাকায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। হঠাৎ করে নেমে আসা এই দুর্যোগে আত্মরক্ষার জন্য বাসিন্দারা খুব একটা সময় পাননি।

কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক নিরঞ্জন পৌডিয়াল জানান, প্রায় ২৫টি ঘরবাড়ি নিয়ে গঠিত নুয়াকোটের সোলি গ্রামটি একপ্রকার সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নিখোঁজ পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের খবরের আশায় বৃহস্পতিবার তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। অত্যন্ত আকুল ও উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। আমার আশঙ্কা, হয়তো আর কোনও খবরই পাওয়া যাবে না।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *