কলম্বোতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে জয়ের জন্য শেষ দিনে ভারতের দরকার ছিল মাত্র একটি উইকেট। আর শ্রীলঙ্কার সামনে ছিল অসম্ভবকে সম্ভব করার লড়াই। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে স্বাগতিকরাই। দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ে ভারতের জয়ের আশা শেষ করে দ্বিতীয় টেস্ট ড্র করেছে শ্রীলঙ্কা। তবে সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে দুই ম্যাচের সিরিজের শিরোপা ঠিকই নিজেদের করে নিয়েছে ভারত।
প্রথম ইনিংসে ভারত ৯ উইকেটে ৫০৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করার পর বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে ১৫৪ ওভারে ৯ উইকেটে ৪২৯ রান করে স্বাগতিকরা। ফলে শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে ম্যাচ জেতার সুযোগ পায়নি ভারত।
শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধের কেন্দ্রে ছিলেন সোনাল দিনুশা। প্রায় পুরো দিনই ভারতীয় বোলারদের হতাশ করে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ১৯৬ বলে শতরানে পৌঁছান। তার ব্যাটেই ম্যাচ গড়ায় শেষ সেশন পর্যন্ত।
দিনুশাকে দারুণ সঙ্গ দেন কেশারা নুয়ান্থা। দুজন মিলে ২০৩ বলে গড়েন শতরানের জুটি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৩২৯ রান। দিনুশা অপরাজিত ছিলেন ৫৫ রানে, নুয়ান্থা ৪৬ রানে।
এরপর ভারত জুটি ভাঙতে সক্ষম হয়। দ্রুত আরও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে ৩৫৯ রানে পরিণত করে তারা। কিন্তু একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান দিনুশা। চা-বিরতিতে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৩৮৩ রান, দিনুশা তখন ৯৮ রানে অপরাজিত। শেষ সেশনে এসে তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি।
১৪৫তম ওভারে ৪০০ রানের গণ্ডিও পেরিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ১৫৪ ওভারে ৯ উইকেটে ৪২৯ রান করে ইনিংস শেষ করে তারা। ফলে শেষ উইকেটটি তুলে আর জয় নিশ্চিত করার সুযোগ আর পায়নি ভারত। ২৬৪ বল খেলা দিনুশা শেষ পর্যন্ত ১৩৩ রানে অপরাজিত থেকেছেন। ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ২টি ছয়। সঙ্গে ছিলেন আসিথা ফার্নান্ডো। ২৪ বল খেলে শূন্য রানে টিকে ছিলেন তিনি।
এর আগে ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিল ভারত। ১৩৮ ওভারে ৯ উইকেটে ৫০৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা। জবাবে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস থামে ২৯০ রানে। ফলে ভারত পায় ২১৩ রানের বড় লিড।
এই বিশাল ঘাটতি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামলেও এবার নিজেদের ভুল শুধরে নেয় লঙ্কানরা। ব্যাটারদের দৃঢ়তায় ১৫৪ ওভার উইকেটে কাটিয়ে দিয়ে নিশ্চিত করে ড্র।
এসএন/পিডিকে