নির্বাচনী প্রচারে মোদি, মমতা, তেজস্বী যাদব, কেজরিওয়াল

প্রথম দফার নির্বাচন শেষ। এবার শেষ দফার নির্বাচন। আগামী ২৯ এপ্রিল শেষ দফায় ১৪২ আসনে ভোট নেওয়া হবে। এই দফার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন ২৭ এপ্রিল। ফলে হাতে সময় মাত্র দুই দিন। স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, আমজনতা উন্নয়ন পার্টি, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)- এর মত দলগুলো নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলেছে। 

রবিবার সরকারি ছুটির দিন। ফলে সকাল থেকেই একদিকে যেমন প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছেন, দারে দারে গিয়ে জনসংযোগ করছেন, তেমনি প্রার্থীদের সমর্থনে তারকা ক্যাম্পেইনাররাও পথে নেমেছেন। 

বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারণা উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, ভোজপুরি সিনেমার অভিনেতা ও বিজেপির সংসদ সদস্য রবি কিষান প্রমুখ। 

অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে একাধিক প্রচারে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, মমতার ভাতিজা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি, টলিউড অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব), টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিহারের সাবেক উপ মুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, বলিউড অভিনেত্রী মন্দাকিনী। 

বিকেলে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগায় একটি নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে গত ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনামলে দুর্নীতি, অপশাসন, সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি, বেকারত্বসহ একাধিক ইস্যুতে তুলোধনা করে মোদি বলেন, “আগে মা মাটি মানুষের স্লোগান দিয়ে তৃণমূল সরকারে এসেছিল। কিন্তু এখন এদের মুখ থেকে মা মাটি মানুষ শব্দ বের হয় না। তৃণমূলের নির্মমতার কারণে মায়ের চোখে এখন পানি, মাটিকে সিন্ডিকেট ও অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে এবং বাংলার মানুষকে পালানোর জন্য বাধ্য করেছে। এই সরকারের আমলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় একের পর এক শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কেবলমাত্র একটাই দোকান খোলা রয়েছে- তাহলো সিন্ডিকেট ও কমিশন। ফলে এই সরকারকে পাল্টাতেই হবে।”

বনগাঁর মাটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা অবৈধভাবে বাংলায় এসেছে, যারা ভুয়া নথি নিয়ে এখানে বসবাস করছে, তারা যেন ২৯ এপ্রিলের আগেই বাংলা ও দেশ ছেড়ে চলে যায়। না হলে ৪ মে এর পর প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে।  তৃণমুল কোনো অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে পারবে না।” 

প্রথম দফার নির্বাচনে ৯১ শতাংশ শতাংশের বেশি ভোট পড়া নিয়ে মোদির মন্তব্য, “প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলা কামাল করে দিয়েছে। প্রথম দফার নির্বাচনে তৃণমূলের অহংকার ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বিজেপির সরকার নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।” 

মোদি বলেন, “বাংলার তরুণ-তরুণীদের তৈরি করা মিউজিক ভিডিও, ওদের বানানো আর রিল সোশ্যাল মিডিয়ায় খুবই প্রশংসিত হচ্ছে। কিছু কিছু রিল তো আমি নিজেও দেখেছি। ঝালমুড়ি থেকে যার এত ঝাল লাগতে পারে, তার তরুণ প্রজন্মের এই সৃষ্টিশীলতা পছন্দ হবে না। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসলে এই সৃষ্টিশীলতাকে বাংলার শক্তিতে পরিণত করবে।” 

এদিকে, ভবানীপুর আসনে তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জির পাঁচটি নির্বাচনী কর্মসূচি রয়েছে। এরমধ্যে একটি পদযাত্রা, বাকিগুলি জনসভা। 

অন্যদিকে রবিবাসরীয় প্রচারের সবটাই শান্তিপূর্ণ হয়নি। হাওড়ার লিলুয়ায় বিজেপির প্রচারের সময় ভোজপুরি সুপারস্টার বিজেপি সাংসদ রবি কিষাণের রোড শো মুখোমুখি হয় তৃণমূলের মিছিলের, যার ফলে ‘জয় শ্রীরাম’ বনাম ‘জয় বাংলা’ স্লোগানযুদ্ধ শুরু হয়। এই প্রচার চলাকালে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, বাঁশ-লাঠি নিয়ে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জখম হয়েছে চার জন। পরিস্থিতি মুহূর্তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। লাঠিচার্জ করে তা সামলায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

এছাড়াও প্রচারে বেরিয়ে তীব্র তাবদাহে  ডিহাইড্রেশনের সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অভিনেতা দেব।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *