নাহিদ রানাকে যে পরামর্শ দিলেন অ্যালান ডোনাল্ড

বাংলাদেশের পেস ইউনিটের উদীয়মান তারকা নাহিদ রানা। ইতোমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কেড়েছেন তিনি। নিজের গতি আর বিষাক্ত বাউন্সারে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের রীতিমতো কাঁপিয়ে দিচ্ছেন এই টাইগার পেসার। তার এমন আগুনে পারফরম্যান্স আলাদা করে নজর কেড়েছে ক্রিকেটবিশ্বের।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই গতির ঝড় তুলে আলোচনায় আসেন নাহিদ রানা। সর্বশেষ টেস্ট সিরিজেও তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে পাকিস্তান। বিশেষ করে মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে ম্যাচ জেতানো এক স্পেল করেন তিনি।

২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন অ্যালান ডোনাল্ড। নাহিদকে একটি নেট সেশনে আবিষ্কার করেছিলেন তিনি। সেই সুবাদে নাহিদ রানাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল ডোনাল্ডের। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নাহিদকে নিয়ে সেই স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরামর্শও দিয়েছেন।

উইজডেনের বিশেষ পডকাস্ট ‘দ্য স্কুপ’-এ ডোনাল্ড বলেন, ‘নাহিদকে সামলানো যেকোনো ব্যাটারের জন্যই কঠিন। সে দারুণ গতিময়, লম্বা ও ছিপছিপে গড়নের, এক কথায় অসাধারণ একজন অ্যাথলেট। পুরো বাংলাদেশ থেকে একঝাঁক তরুণ পেসার নিয়ে চট্টগ্রামে আড়াই দিনের একটি ক্যাম্প করা হয়েছিল, সেখানেই তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা।’

ডোনাল্ড আরও যোগ করেন, ‘নাহিদকে দেখে আমি এতটাই রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম যে, তখনকার কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে বলেছিলাম— চলো, এই ছেলেটাকে দ্রুত কোথাও সুযোগ দেওয়া যাক। ও তখন একেবারেই অপরিচিত ও অনভিজ্ঞ ছিল, কিন্তু ওর গতি ছিল অবিশ্বাস্য। আর আজ সে ক্রিকেটের সব সংস্করণে এত ভালো করছে, এটা দেখা সত্যিই আনন্দের।’

নাহিদের বোলিং স্টাইলের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা গতিময় বোলার স্টিভ হার্মিসনের মিল খুঁজে পান ডোনাল্ড। তিনি বলেন, ‘সে কিছুটা সেরা ছন্দে থাকা স্টিভেন হার্মিসনের মতো। হার্মিসন ছিলেন দীর্ঘদেহী, রান-আপ খুব বেশি আকর্ষণীয় না হলেও ছন্দের দিক থেকে ছিলেন দুর্দান্ত এবং মারাত্মক গতিময়। নাহিদ রানাও ঠিক তেমনই।’

নাহিদের সেরাটা বের করে আনতে তার স্বাভাবিক বোলিংয়ে কোনো হস্তক্ষেপ না করার পরামর্শ দিয়ে ডোনাল্ড বলেন, ‘আমার মনে হয় নাহিদের ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওকে লাইন-লেংথ মেপে বল করার জন্য চাপ না দেওয়া।’ 

ঢাকা টেস্টের উদাহরণ টেনে ডোনাল্ড বলেন, ‘ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে সে ১০৪ রান দিয়ে কোনো উইকেটই পায়নি। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেই নাহিদ ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচ জিতিয়েছে। আর এই কারণেই ওর সহজাত বোলিংয়ে কখনো জোর করে বদল আনা উচিত নয়।’

নাহিদ রানার সামর্থের কথা জানিয়ে ডোনাল্ড বলেন, ‘নাহিদ হয়তো মাঝেমধ্যে কিছু রান খরচ করবে, কিন্তু যেকোনো সময় একাই ৫-৬ উইকেট তুলে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে। এটাই ওর বিশেষত্ব। তাই নাহিদ রানার উচিত স্রেফ মাঠে নেমে নিজের গতিতে বল করে যাওয়া।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *