নাটকীয় ড্রয়ে সেমিফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখল ভুটান-শ্রীলঙ্কা

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে ভুটানের সামনে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। বাঁচা-মরার এই ম্যাচে দুর্দান্ত শুরুও পেয়েছিল তারা। তবে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিল শ্রীলঙ্কাও। নানা নাটকীয়তা শেষে অবশ্য ম্যাচে জয় পায়নি কোনো দলই।

আজ রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় ফুটবল স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করেছে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। এই ড্রয়ের সুবাদে অবশ্য সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে শ্রীলঙ্কা আর ভুটান দুই দলই। অন্যদিকে, এক ম্যাচ হাতে রেখেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমজমাট হয়ে ওঠে খেলা। ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ভুটান। তারকা ফরোয়ার্ড চেনচো গাইয়েলতশেনের বাড়ানো ক্রস এক ডিফেন্ডার কাঁধ দিয়ে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করলে বল পেয়ে যান দাওয়া তিসেরাং। ফিরতি শটে বল জালে জড়িয়ে ভুটানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি ভুটান। গোল হজমের রেশ কাটতে না কাটতেই পাল্টা আক্রমণে সমতায় ফেরে শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ফরোয়ার্ড ওলিভার জেমসের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বুলেট গতির দূরপাল্লার শট ভুটানি গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়েও ফেরাতে পারেননি।

খেলার বয়স যখন ৪০ মিনিট, তখন আরও একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে লঙ্কানরা। সাইডলাইন থেকে ইংল্যান্ড প্রবাসী সেন্টার-ব্যাক ক্রিস্টোফার কেলির দুর্দান্ত শট ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে যায়। তবে এর ঠিক একটু পরেই ওলিভার জেমসের চমৎকার ক্রসে দারুণ এক ডাইভিং হেডে শ্রীলঙ্কাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ওয়াসিম রাজেক।

ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে নাটকের চরম মুহূর্ত তৈরি হয়। বক্সে বল দখলের লড়াইয়ে ভুটানের কিংজেন তেনজিনকে ফাউল করে বসেন শ্রীলঙ্কার ডিফেন্ডার ডিলন সেনান ডি সিলভা। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পায় ভুটান।

তবে পেনাল্টি থেকে চেনচো গাইয়েলতশেনের নেওয়া শটটি ডানদিকে দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন লঙ্কান গোলরক্ষক সুজান পেরেইরা। এরপর ফিরতি শটটিও গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন ডিলন।

তবে বেশিক্ষণ হতাশ থাকতে হয়নি চেনচোকে। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে ঠিকই দলকে সমতায় ফেরান তিনি। দূরপাল্লার একটি ফ্রি কিক লঙ্কান গোলরক্ষক সুজান প্রথম দফায় ফেরালেও গ্লাভসে পুরোপুরি জমাতে পারেননি। আলগা হয়ে থাকা সেই বল দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক কাট-ব্যাক করেন তানদিন তিসেরাং। আর সেই পাস থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন চেনচো।

এর পরের মিনিটেই আরও একটি গোল হজম করতে বসেছিল ভুটান। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার নিশ্চিত শট রুখে দিয়ে দলকে সমতায় টিকিয়ে রাখেন ভুটানি গোলরক্ষক জাংপো গাইয়েলতশেন।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রোমাঞ্চের কমতি ছিল না। শ্রীলঙ্কার একটি আক্রমণ গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর ভুটানের বক্সের ভেতর বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন শ্রীলঙ্কার রাহুল সুরেশ। শেষ পর্যন্ত আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচটি ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়।

আগামী বুধবার (১১ নভেম্বর) গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। ভুটান তাদের দুটি ম্যাচ খেলে ফেলায়, এখন সেমিফাইনালের টিকিট পেতে ভুটানকে তাকিয়ে থাকতে হবে আগামী বুধবারের এই ম্যাচের ফলাফলের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *