সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নব্য জেএমবির সদস্য মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরানকে ছয় দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এই আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাহাজউদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকালে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিটিটিসি। গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা বিস্ফোরক দ্রব্যসহ নাশকতার উদ্দেশ্যে সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকায় অবস্থান করছে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে সাভারের বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়ালসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ‘সন্দেহজনকভাবে’ অবস্থান করা কয়েকজনের দিকে পুলিশ এগিয়ে গেলে অন্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আরিফ ওরফে ইমরানকে আটক করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, আটকের পর আরিফের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম, একটি পাইপ বোমা তৈরির স্টিল পাইপ, চাপাতি, সুইচ গিয়ার নাইফ, ব্যাটারি ও একটি নকিয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু ঘটনাস্থলেই নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক, রাসায়নিক পাউডার, পটাশিয়াম নাইট্রেট, বারুদ মিশ্রিত কটন বার, বৈদ্যুতিক তার, ডেটোনেটর, রিমোট ও কন্ট্রোলার, পাইপ বোমার ধ্বংসাবশেষ, বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং জিহাদ সংক্রান্ত কয়েকটি বই উদ্ধার করেছে।
এর আগে গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) নাশকতার পরিকল্পনা ও চেষ্টা, বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় সিটিটিসির এসআই আলমগীর হোসেন সাভার মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।