নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি : সংস্কৃতিমন্ত্রী

নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। তিনি একদিকে গজল, হামদ-নাত রচনা করেছেন এবং একইসাথে শ্যামাসংগীত, কীর্তন, ভজন রচনা করেছেন। তিনি একাডেমিক লেখাপড়ায় তেমন ভালো না হলেও বাংলা সাহিত্যের প্রত্যেকটি বিষয়েই অনবদ্য রচনা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। 

ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনকালে সোমবার (১১ মে) এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, এই মহান কবির পদচারণার পূণ্যভূমি ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কবির নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে এবং পর্যটন এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু বিভাগ খোলা প্রয়োজন, বিশেষ করে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার জন্য ভাষা ইন্সটিটিউট।

নিতাই রায় বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করলেও সেই উদ্বোধনের স্থান পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে রাখা হয়েছে। তাঁর সেই কর্মকে বাইরে রাখলেই কি তাঁকে মুছে ফেলা যাবে? সূর্যের আলো কি হাত দিয়ে ঘিরে রাখা সম্ভব? কখনোই না।

পরিদর্শনের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ হতে ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য এবং নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন।

এরপর উপাচার্যের অফিস কক্ষ সংলগ্ন কনফারেন্স কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, একাডেমিক ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্ত্রীর সাথে কথা বলেন উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলম।

ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ত্রিশালে জাতীয়ভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপনের বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের পর থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা পাওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ত্রিশালে ৫ দিনব্যাপী নজরুলজয়ন্তীর যে আয়োজন করতে যাচ্ছি, তা ত্রিশালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসবেন। তাকে তার মায়ের প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসব, ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও অনুষ্ঠানের প্রতিদিনই সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। ত্রিশালে কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের এক মহামিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানসহ বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর প্রধান, প্রক্টর, প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং ত্রিশাল ও ময়মনসিংহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি বিষয়ে ময়মনসিংহে সভা শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *