নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি ৩ মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ থাকে, যাকে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বলা হয়। শুনতে সাধারণ মনে হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে সেটিই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক। খেলোয়াড়দের পানি পান করানোর জন্য চালু করা তথাকথিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’কে অনেকেই আর নিছক বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, এই বিরতির আড়ালে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে ফুটবলের চিরচেনা ছন্দ। আর বাড়ছে বাণিজ্যের প্রভাব।
বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে এই বিরতির সময় গ্যালারি থেকে শোনা গেছে দুয়োধ্বনি। থমাস টুখেল, মার্সেলো বিয়েলসা ও কাই হাভার্টজের মতো ফুটবল ব্যক্তিত্বও এর সমালোচনা করেছেন। তাদের যুক্তি, টানা ৪৫ মিনিটের লড়াইই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য। মাঝপথে তিন মিনিটের বিরতি খেলাটির স্বাভাবিক গতি, কৌশল ও মানসিক লড়াইকে বদলে দিচ্ছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, খেলোয়াড়দের সুস্থতার কথা বললেও এই বিরতির আসল উদ্দেশ্য অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের সুযোগ তৈরি করা। বিরতির সময় সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। যা ফিফার আয়ও বাড়াচ্ছে। তাই অনেকের মতে, এটি ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নয়, বরং একটি বিজ্ঞাপন বিরতি।
এর প্রভাব মাঠেও স্পষ্ট। বিরতির সময় কোচরা নতুন পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এক ম্যাচে এই বিরতিতেই কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের কৌশল বদলে ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দেন। অর্থাৎ, এটি শুধু বিশ্রামের সময় নয়। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ। টানা দুই অর্ধের লড়াইয়ে ক্লান্তি, চাপ, ভুল এবং সৃজনশীলতার যে স্বাভাবিক মিশ্রণ তৈরি হয়। সেটিই খেলাটিকে অন্য সব খেলা থেকে আলাদা করেছে। অনেকের আশঙ্কা, এমন বিরতি নিয়মিত হলে ফুটবল ধীরে ধীরে চার কোয়ার্টারের খেলায় রূপ নেবে। যা এর ঐতিহ্য ও স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ কি মাঠের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে, না কি বিজ্ঞাপনের সময়সূচি ধরে? বিশ্বকাপের এই বিতর্ক হয়তো সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে। কারণ ফুটবলের আবেদন শুধু গোলে নয়, তার নিরবচ্ছিন্ন ছন্দেও। সেই ছন্দে হস্তক্ষেপের মূল্য ভবিষ্যতে কতটা চড়া হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।