জামালপুরের মেলান্দহে দাফনের ১২ ঘণ্টা পর এক বৃদ্ধা নারীকে ‘জীবিত’ ভেবে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। জিনের কথার ওপর ভিত্তি করে কবর থেকে মরদেহ তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান মৃতের স্বজনরা। তবে চিকিৎসকদের পুনর্নিশ্চয়তার পর রাতেই মরদেহ আবার দাফনের জন্য বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার চর মাহমুদপুর গ্রামে ঘটা এই কাণ্ড নিয়ে পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর মাহমুদপুর গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী হালিমা খাতুন (৬৫) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিনগত রাত ১টার দিকে মারা যান। পরদিন শনিবার সকাল ৮টায় পারিবারিক কবরস্থানে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু দাফনের পর থেকেই হালিমা খাতুনের মেয়ে সুলতানা যিনি নিজেকে জিনের আছরপ্রাপ্ত বলে দাবি করেন- তার মা জীবিত আছেন এবং জিন তাকে এই তথ্য জানিয়েছে বলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।
মেয়ের এই দাবিতে বিভ্রান্ত হয়ে রাত ৯টার দিকে স্বজনরা হালিমা খাতুনের কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করেন। সত্যিই তিনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে রাতেই মরদেহ নিয়ে মেলান্দহ ও জামালপুর সদরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালেও ছোটছুটি করেন স্বজনরা। কিন্তু সব জায়গার চিকিৎসকরাই তাকে চূড়ান্তভাবে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের পুনর্নিশ্চয়তার পর রাতেই স্বজনরা আবার হালিমা খাতুনের মরদেহ নিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন পুনঃদাফনের উদ্দেশ্যে।
মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবীব আদনান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হলেও তারা ওই নারীকে সরকারি হাসপাতালে না এনে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি, ওই নারী তখনই মৃত ছিলেন।