বল দখলের লড়াই, আক্রমণ কিংবা পাসিং– সব জায়গাতেই একক আধিপত্য দেখাল ব্রাজিল। কিন্তু জাপানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না তারা। খেলার বিপরীতে গিয়ে হজম করে বসে গোল। এরপর যেনো তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে সেলেসাওরা। ক্যাসেমিরোর গোলে ম্যাচে ফেরে ব্রাজিল। তবে সব রোমাঞ্চ যেন জমা ছিল শেষের জন্য। শেষ মুহূর্তে গোল করে, প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে জাপানের স্বপ্ন ভেঙে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আজ সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে শেষ ৩২- এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল আর জাপান। রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে কার্লো আনচেলত্তির দল। তৃতীয় মিনিটেই প্রথম ভালো সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। বক্সের প্রান্ত থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের জোরালো শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে অল্পের জন্য গোলবারের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।
এরপর ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রায়ান ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিদের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ শানায় সেলেসাওরা। তবে জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল।
বলের দখলে পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের পরিকল্পনায় অটুট ছিল জাপান। নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজিয়ে তারা ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি প্রতিআক্রমণের সুযোগ খুঁজছিল। হাইড্রেশন ব্রেকের পরই সেই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন করে এশিয়ার দলটি।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে দ্রুত আক্রমণে উঠে আসেন কাইশু সানো। ড্রিবলিংয়ের দারুণ নৈপুণ্যে কয়েকজন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত কোণাকুণি শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। ব্রাজিল গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। জাপানের জার্সিতে এটি সানোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। আর সেই গোলেই নকআউট মঞ্চে এগিয়ে যায় সামুরাই ব্লুরা।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়াস, রায়ান ও মার্তিনেল্লিরা একাধিকবার জাপানের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পাস ও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা মেলেনি।
অন্যদিকে, এগিয়ে যাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে জাপান। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টাও চালায় তারা। ফলে প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত এক গোলের মূল্যবান লিড ধরে রাখতেই সফল হয় সামুরাই ব্লুরা।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে ব্রাজিল। ৫১তম মিনিটে দানিলোর নিখুঁত চিপ পাস থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দেন গোলরক্ষক সুজুকি।
তবে পাঁচ মিনিট পরই আসে কাঙ্ক্ষিত সমতা। ৫৬তম মিনিটে কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলার মধ্যে বল পেয়ে দারুণ হেডারে জাপানের জাল কাঁপান ক্যাসেমিরো। অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারের গোলে ১-১ সমতায় ফিরে নতুন উদ্যমে খেলতে শুরু করে ব্রাজিল।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় সেলেসাওরা। একের পর এক আক্রমণে জাপানের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন ভিনিসিয়াস, মার্টিনেল্লি, এন্ড্রিক ও ব্রুনো গিমারায়েসরা। দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দীর্ঘ সময় দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ মুহূর্তে নিজেদের বক্সের ঠিক বাইরে ভয়াবহ ভুল করেন তাকানা। বল হারাতেই ব্রুনো গিমারায়েস নিখুঁত থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির উদ্দেশে। মুহূর্তের মধ্যে বাঁ পা থেকে ডান পায়ে বল সরিয়ে দুর্দান্ত শট নেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড। সুজুকিকে পরাস্ত করে পোস্টে লেগে বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিল শিবির।
শেষ কয়েক মিনিটে চলে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ। তবে আর খুঁজে পায়নি কোনো দল। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই দ্বিতীয়বার উদযাপন শুরু করে ব্রাজিল।