জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও প্রক্টরের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাতভর বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ৫১তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে অনুসরণ করে এক বহিরাগত ব্যক্তি। একপর্যায়ে তাকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে পাশের ঝোপঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ওই যুবক। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
গতকাল বুধবার (১৩ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান পয়েন্টে নারী শিক্ষার্থীরা প্রথমে জমায়েত হন। পরে সেখান থেকে মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলে একাত্মতা প্রকাশ করে বিপুল সংখ্যক ছাত্রও যোগ দেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ভবন অতিক্রম করার সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রক্টর অফিস ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং তারা ৫ দফা দাবি জানায়।
দাবিগুলো হলো, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা, বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, হয়রানি ও হেনস্তার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা ও নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও ‘কুইক রেসপন্স টিমে’ তাদের অন্তর্ভুক্তি করা।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাবে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত যুবক গ্রেপ্তার না হলে এবং দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আন্দোলনের মধ্যেই এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন জাবি শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, মঙ্গলবার রাতের ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছে।