ভারতের গ্রেটার নয়ডায় একটি চলন্ত স্লিপার বাসে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বিশ্বনাথ ট্রাভেলস নামে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছিল। গ্রেটার নয়ডার এ ঘটনাটির সঙ্গে ২০১২ সালের ডিসেম্বরের নির্ভয়া মামলার মিল রয়েছে। খবর এনডিটিভির।
গ্রেটার নয়ডার ঘটনাটি ঘটে ৪ আগস্ট। ভারতের উত্তর প্রদেশের মইনপুরী থেকে নয়ডায় যাওয়ার পথে ওই কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ওইদিন ভুক্তভোগী কিশোরী নয়ডা সেক্টর ৬৩-তে যাওয়ার জন্য একটি খালি বাসে ওঠেছিল। ইতোমধ্যে বাসের চালক কুলদীপ (৩৯) ও কন্ডাক্টর সন্দীপ (২৬)-কে উত্তর দিল্লির তিমারপুরের একটি পার্কিং লট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে করা অভিযোগে ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, পড়াশোনা নিয়ে মায়ের বকুনি খাওয়ার পর সে পরিবারকে না জানিয়ে নয়ডায় তার এক আত্মীয়র বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। মুষলধারে বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে সে নয়ডার পরিচকে নেমে দেখেন, সে এখনও গন্তব্যে পৌঁছাননি। তখন রাত ৯টা বেজে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজে একা প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে তার আত্মীয়র বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য একটি গাড়ির প্রয়োজন ছিল। এ সময় একটি স্লিপার বাস তার কাছে এসে থামে, কিন্তু কোনো যাত্রী ছিল না।
ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ অনুযায়ী, কন্ডাক্টর তাকে জানান—তারাও নয়ডা সেক্টর ৬৩-এর দিকে যাবেন। এরপর ওই কিশোরী বাসে উঠে পড়েন।
পুলিশ জানায়, বাসটি আসলে গ্রেটার নয়ডার সুরজপুরের একটি ওয়ার্কশপ থেকে ফিরছিল।
অভিযোগে ওই কিশোরী বলেন, গাড়ি চলতে শুরু করার পরপরই কন্ডাক্টর তার সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন এবং তাকে যৌন হেনস্থা করেন। বাধা দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
ধর্ষণের পর তারা তাকে দিল্লির কাশ্মীর গেটের রিং রোডের কাছে ফেলে রেখে যায়। এরপর সে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। এরপর আসামিদের খোঁজে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, ‘স্লিপার’ বাসটির বার্থগুলো পর্দা দিয়ে ঢাকা ছিল, যার সুযোগ নিয়েছিল আসামিরা। পুলিশের ফরেনসিক দল বাসের ভেতর থেকে ওই কিশোরীর বেশকিছু চুল খুঁজে পেয়েছে। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে। তদন্তকারীরা বাসটির যাত্রাপথের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন।