আলাদাভাবে যন্ত্রাংশ এনে তা স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ এ তথ্য জানান।
রেজভী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ২৭ আগস্ট দিবাগত রাতে কক্সবাজারের কলাতলী রোডের ‘ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রচলিত নম্বর প্লেটের পরিবর্তে ‘এসআইএনএইচফোর’, ‘এসফোরএফআইএটি’ এবং ‘ইএসএইচফোরএইচ’ লেখা তিনটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিলাসবহুল গাড়ি পাওয়া যায়। গাড়ি তিনটি হলো—টয়োটা সুপ্রা, হোন্ডা সিভিক ও মাজদা এমএক্স-৫। গাড়িগুলোর যন্ত্রাংশ হিসেবে ভুল ও অসত্য ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে এনে স্থানীয়ভাবে সংযোজন (অ্যাসেম্বল) করার অপরাধে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ১৯১ ধারা অনুযায়ী উদ্ধার করা হয়েছে।
সিআইআইডি জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন—কক্সবাজারের হাসিবুর রহমান সিনহা, গাজীপুরের আজমাইন রাইহান, ঢাকার নকিবুল হাসান ও সিফিয়াত মাহমুদ এবং গাজীপুরের শরাফাত রহমান। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এই ব্যক্তিদের ভূমিকা চূড়ান্ত প্রমাণিত না হলেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, সম্পূর্ণ গাড়ি হিসেবে আমদানি না দেখিয়ে পার্টসের ঘোষণা দিয়ে আনার পর দেশের কোথায় ও কীভাবে এগুলো অ্যাসেম্বল করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে শুল্ক ফাঁকি বা চোরাচালানের চূড়ান্ত প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দাবিনামা জারি, জরিমানা আরোপ ও মালামাল বাজেয়াপ্তসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।