ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) উপজেলার কদমতলী এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি নেতা কবির আহমেদের পক্ষের নেতাকর্মীরা একটি আনন্দ র্যালি বের করেন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা একটি পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত নেতাকর্মীরাও ওই বিক্ষোভে অংশ নেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা কদমতলী এলাকায় মুখোমুখি হলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাওয়া ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ চলা এই সংঘর্ষে মোহনা টেলিভিশনের কসবা প্রতিনিধি ও সাংবাদিক হারুনুর রশিদ ঢালীসহ অন্তত সাতজন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরুতেই দুই পক্ষকেই নির্ধারিত সীমানা ও নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা প্রশাসনের সেই অনুরোধ না শুনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে পুলিশের সময়োপযোগী ও কৌশলী পদক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এই অনভিপ্রেত ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মো. রাশেদ জানান, বিএনপির দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।