ডারউইনে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই আলো ছড়িয়েছে বাংলাদেশ। টানা ৪ দিন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আধিপত্য করেছে টাইগাররা। দারুণ পারফরম্যান্সে ইতিহাস গড়া জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের হারানোর গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক টেস্ট জয় দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ম্যাচ শেষে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পেসারদের মানসিকতার আমূল পরিবর্তনকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমি ভীষণ খুশি এবং গর্বিত—নিজের জন্য তো বটেই, ছেলেরা যেভাবে মাঠে লড়েছে তার জন্যও। এই সাফল্যের পেছনে আমাদের দীর্ঘ ও কঠোর পরিশ্রম রয়েছে।’
শান্তর মতে, অতীতে দল কেবল স্পিননির্ভর থাকলেও এখন পেসাররা টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণ করতে মুখিয়ে থাকেন, যা দেশের ক্রিকেটে বড় একটা বদল এনে দিয়েছে।
শান্ত বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। পাঁচ বছর আগেও পেসাররা টেস্ট খেলতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত না। কিন্তু এখন আমরা অনেক বেশি টেস্ট খেলছি এবং পেসাররাও এই ফরম্যাটকে ভীষণ গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা মাঠে নামতে চায়, নিজেদের সেরাটা দিয়ে পারফর্ম করতে চায় এবং বিশ্বমানের বোলার হয়ে উঠতে চায়। বর্তমানে তাদের মানসিকতা পুরোপুরি বদলে গেছে।’
তরুণ ক্রিকেটারদের এই মানসিকতা তৈরিতে দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা বড় ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে করেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়েরা তরুণদের দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট খেলতে সবসময় উৎসাহিত করে গেছেন।’
ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করা তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটিং পদ্ধতির প্রসংশা করে অধিনায়ক বলেন, ‘সাধারণত সাদা বলের ক্রিকেটে তামিম বেশ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে থাকে। তবে এই টেস্টে সে দারুণ ধৈর্য দেখিয়েছে এবং বলের মেরিট অনুযায়ী শট খেলেছে। একজন টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে আমরা সব সময়ই দলের ইনিংসে তার একটা বড় প্রভাব দেখতে চেয়েছিলাম, আর সে ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই ঐতিহাসিক জয়ের তাৎপর্য তুলে ধরে শান্ত বলেন, ‘ক্রিকেটের যেকোনো ফরম্যাট বিবেচনা করলেই এটি আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা এই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও দারুণ কিছু করতে চাই।’