ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক মাঠ। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিনগত রাতে পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজিপাড়া এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের নির্বাচনি গণসংযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী। অন্যদিকে, এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।
১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, হাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদ প্রাঙ্গণে আমাদের পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনি গণসংযোগের কর্মসূচি ছিল। কথা ছিল, এশার নামাজ আদায় শেষে আমরা সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রচারণায় অংশ নেব। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সেখানে আমাদের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত প্রার্থী বলেন, আসন্ন উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিটি প্রার্থীর স্বাধীন, নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালানোর সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারণাতেই যদি বাধা দেওয়া হয়, তবে নির্বাচনের আর কী অর্থ থাকে? মুষ্টিমেয় কিছু সন্ত্রাসী ও মাস্তানের কারণে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বারবার ব্যহত হচ্ছে।
১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত প্রার্থী আরও বলেন, আজকের এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে মানিক, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন এবং আলমগীর—এই তিনজনের নাম আমি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করছি। আমি অঙ্গীকার করছি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে এই এলাকা থেকে সন্ত্রাস ও মাস্তানির সব দৌরাত্ম্য সমূলে উৎপাটন করা হবে।
প্রশাসনের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আসন্ন উপনির্বাচন যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি। সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।
এ দিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বিএনপি প্রার্থী প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এক উঠান বৈঠকে বলেন, একটি নির্দিষ্ট দল নিশ্চিত পরাজয় জেনে এই সুন্দর পরিবেশের নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের দলের একজন কর্মীও কখনও কাউকে অপমান করেছে কিংবা কারও নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দিয়েছে—এমন নজির কেউ দেখাতে পারবে না।
মির্জা ফয়সল আমীন আরও বলেন, সম্পূর্ণ ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে’ এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে; তাই আমি এলাকার সচেতন জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি, যেন কোনোভাবেই কেউ নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে না পারে।
নেতাকর্মীদের নিজের নির্দেশনা জানিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, আমাদের দায়িত্বশীলতায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে। আমরা কারও নির্বাচনি প্রচারণায় কখনও বাধা দিতে পারি না। এরপরও যদি কেউ এমনটা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে। যার যার প্রচারণা সে স্বাধীনভাবে পরিচালনা করবে।