ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি রাজনীতিক বারঘুতির মুক্তির দাবিতে মার্ভেল তারকাদের প্রচারাভিযান

ইসরায়েলে বন্দি ফিলিস্তিনি রাজনীতিক মারওয়ান বারঘুতির মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযানে যোগ দিয়েছেন মার্ভেল সিনেমা ও সিরিজে অভিনয় করা ২০ জনের বেশি অভিনেতা। ২০২৩ সাল থেকে বারঘুতিকে একক কারাবাসে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার মুক্তির পক্ষে গড়ে ওঠা এই প্রচারাভিযান।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বারঘুতির পরিবার ও চলচ্চিত্র, সংগীত এবং সাহিত্যের দুই শতাধিক ব্যক্তির সমর্থনে শুরু হয়েছে ‘ফ্রি মারওয়ান নাও’ নামের এই প্রচারাভিযান। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বারঘুতির দীর্ঘদিনের বন্দিত্ব, ‘সহিংস নির্যাতন’ এবং আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বারঘুতিকে মুক্তি দিতে জাতিসংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রচারাভিযানটি।

এই উদ্যোগে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা ইয়ান ম্যাককেলেন, মার্ক রাফালো, বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, ডন চেডল, কেট ব্ল্যানচেট, টিলডা সুইনটন ও হুগো উইভিংসহ আরও অনেকে।

৬৮ বছর বয়সী, মারওয়ান বারঘুতি, ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল ফাতাহ’র সাবেক মহাসচিব এবং প্রথম ইন্তিফাদার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ২০০২ সালে তাকে গ্রেফতার করে ইসরায়েল। পরে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময়কার হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ওই মামলায় বারঘুতিকে পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরও ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির তাকে রামন কারাগারে একক কারাবাসে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বারঘুতি কারাগারে বিদ্রোহের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, এমন অভিযোগের কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে বারঘুতিকে একাকী বন্দি করার সিদ্ধান্তের পর তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। প্রচারাভিযানটির দাবি, ২০২৩ সাল থেকেই তাকে একক কারাবাসে রাখা হয়েছে এবং কারাগারে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে।

বারঘুতির মুক্তির দাবিতে এবার বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র, সংগীত ও সাহিত্যাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *