ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সামরিক ড্রোন প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশজুড়ে রাশিয়ার বিভিন্ন হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৫ জনে। এই ঘটনায় প্রতিরক্ষা খাতের উচ্চপদস্থ সদস্যসহ প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবর বিবিসির।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) কিয়েভের উপকণ্ঠে আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা খাতের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, রাশিয়া একযোগে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যার মধ্যে মাত্র একটি ধ্বংস করতে সক্ষম হয় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, দীর্ঘ পাল্লার নিখুঁত অস্ত্রের মাধ্যমে তারা ইউক্রেনের ওই সামরিক ড্রোন প্রদর্শনী কেন্দ্রটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। মস্কোর দাবি, রাশিয়া ভূখণ্ডে হামলা চালাতে ব্যবহূত ড্রোন প্রস্তুতকারক ও সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের যেসব প্রতিনিধিরা সরাসরি পরিকল্পনায় যুক্ত, তারাই ওই প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ ধরনের খোলা জায়গায় ড্রোনের উন্মুক্ত প্রদর্শনী আয়োজন করা নিয়ে সাধারণ ইউক্রেনীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় শহর স্লোভিয়ানস্কে রাশিয়ার গাইডেড বোমায় আরও পাঁচজন এবং সুমি শহরে দুজন নিহত হয়েছেন। এই জোড়া হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনও রাশিয়ার এক হাজার কিলোমিটার গভীরে কিরভ শহরের একটি সামরিক যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় হামলা চালায়, যেখানে ছয়জন রুশ নিহত হন। পাশাপাশি রাশিয়ার বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজের’ গুদামঘরেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে কিয়েভ।
এদিকে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে আরও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের সীমান্ত ঘেঁষে একটি রুশ ড্রোন আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় সেটি গুলি করে ভূপাতিত করেছে রোমানিয়ার একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।