৯/১১-এর ২৫ বছর আজ

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার দিন। সেদিন ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে একযোগে আত্মঘাতী হামলা চালান। 

দুটি উড়োজাহাজ নিউইয়র্কের আকাশচুম্বী ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হেনে সেটিকে ধূলিসাৎ করে দেয়। তৃতীয় বিমানটি আছড়ে পড়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগনে এবং চতুর্থটি পেনসিলভানিয়ার উন্মুক্ত প্রান্তরে বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় বিশ্ব, প্রাণ হারান ২ হাজার ৯৭৭ জন নিরীহ মানুষ।

আজ সেই নারকীয় ট্র্যাজেডির ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এক দিনের এই ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই বদলে দেয়নি, বরং গত আড়াই দশক ধরে আমূল পাল্টে দিয়েছে বিশ্বরাজনীতি, সামরিক নীতি, গোয়েন্দা কৌশল এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র।

হামলার মাত্র নয় দিনের মাথায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ঘোষণা করেন ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধ’ (ওয়ার অন টেরর)। এর ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের শেষভাগে আফগানিস্তানে তালেবান ও আল-কায়েদাবিরোধী অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এরপর ২০০৩ সালে শুরু হয় বিতর্কিত ইরাক আগ্রাসন।

পরবর্তী দুই দশকে এই দীর্ঘ যুদ্ধ, ড্রোন হামলা, নজরদারি বৃদ্ধি এবং গুয়ান্তানামো বে-র মতো গোপন বন্দিশিবিরে বিচারহীন আটকের ফলে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের প্রশ্নে তীব্র বিতর্কের জন্ম হয়।

হামলার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল গোয়েন্দা ব্যর্থতা। হামলার আগে সিআইএ ও এফবিআইয়ের কাছে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন তথ্য থাকলেও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে তা ঠেকানো যায়নি। পরবর্তী সময়ে এই ঘাটতি পূরণে ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার (এনসিটিসি) এবং ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পদ তৈরি করে মার্কিন গোয়েন্দা কাঠামোকে পুরোপুরি নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়।

বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ দমন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক মনোযোগ রাশিয়া ও চীনকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরে যাওয়ায় অনেকেই সমন্বয়হীনতার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি দেখছেন। তবে ইতিহাসের এই পঁচিশ বছর পূর্তিতে ৯/১১-এর মূল শিক্ষাটি আজও অত্যন্ত স্পষ্ট—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল গোয়েন্দা তথ্য থাকাই যথেষ্ট নয়; সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের নির্ভুল মূল্যায়ন ও সমন্বিত পদক্ষেপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *