৪৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, বললেন শুভেন্দু অধিকারী

গত মাসে ভারতের হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটি, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই তথ্য জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি ১০ কোটিরও বেশি মানুষের এই পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাজ্যের নির্বাচনে বিশাল জয়লাভ করে। নির্বাচনের প্রচারাভিযানে তারা অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে নিজেদের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ এবং ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

ক্ষমতা গ্রহণের পর, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার নথিপত্রহীন বাংলাদেশি এবং মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা মূলত মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আটক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়।

রোববার (৭ জুন) রাজধানী কলকাতায় বক্তব্য দেওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা সেইসব বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু করেছি যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় পড়ে না।’ মে মাসে রাজ্য সরকার সব জেলায় হোল্ডিং সেন্টার (আটক কেন্দ্র) স্থাপন করেছে- উল্লেখ করে তিনি এমনটা বলেন।

শুভেন্দু আরও বলেন, ‘এই কেন্দ্রগুলো থেকে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আরও ৮৩৬ জন মানুষ হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে রয়েছে… আমরা খুব শিগগিরই এই ৮৩৬ জনকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।’

সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে অভিবাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে এই বিতাড়ন অভিযান চালানো হচ্ছে। ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা এর আগে অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ এবং ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

সমালোচকদের মতে, বিজেপির এই বক্তব্য ও নীতি ভারতের ২০ কোটিরও বেশি মুসলিমদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা দলটির বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয়কে অবৈধ অভিবাসনের সাথে মিলিয়ে ফেলার অভিযোগ এনেছেন।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এর আগেও ভারতের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শত শত বাংলাভাষী মুসলিমকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *