টেস্টে সাম্প্রতিক সময়টা দারুণ যাচ্ছে টাইগার পেসার হাসান মাহমুদের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেওয়ার পর এবার আগ্রাসন দেখালেন আফগানিস্তানকে। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালে দারুণ বোলিংয়ে ধসিয়ে দিয়েছেন আফগানিস্তানের ব্যাটিং। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে গড়েছেন হ্যাটট্রিকের কীর্তিও।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে হ্যাটিট্রকের কৃতিত্ব দিয়েছেন দুইজনকে। যার মধ্যে একজন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আরেকজন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। মূলত তৃতীয় উইকেটটি পেয়েছিলেন রিভিউ নিয়ে। আর এই রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন হাসান। ঠিক সেই সময় তাকে সাহস জুগিয়ে অধিনায়ক শান্ত ও লিটন রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর এতেই ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিকের দেখা পান তিনি।
হাসান বলেন, ‘বলটা একদম সোজা এসে সরাসরি ব্যাটারের প্যাডে লেগেছিল। এরপর আমি সঙ্গে সঙ্গে লিটনের সঙ্গে কথা বলি। ও (লিটন) আমাকে বলল— “হ্যাঁ, বলটা ব্যাকফুটে ছিল, মনে হচ্ছে উইকেটে হিট করবে।” ওর (লিটন) কথা শুনেই আমরা রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’
রিভিউ নেওয়ার পেছনের সংশয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো দেখেছেন প্রথম ইনিংসে আমরা দুই-একটা রিভিউ ভুল করে নষ্ট করেছিলাম। তাই সবাই ডিআরএস নেওয়া নিয়ে একটু চিন্তায় ছিল যে, কী হতে যাচ্ছে—বল সত্যি উইকেটে গিয়ে লাগবে নাকি মিস করবে! তবে শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গেছে, আর তাই এর পুরো কৃতিত্ব অধিনায়ক (নাজমুল হোসেন শান্ত) ও লিটন দাসকেই দিতে হবে।’
নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হাসান বলেন, ‘আমি শুধু মনে মনে ভাবছিলাম স্টাম্পের সোজাসোজি বল করা দরকার, ব্যস এটুকুই। বাকি কাজটা সৃষ্টিকর্তার কৃপায় নিজে থেকেই হয়ে গেছে। আমি কেবল অফ স্টাম্পের চ্যানেল ধরে টানা বোলিং করে গেছি এবং তাতেই ফল মিলেছে।’
নেতুন চ্যালেঞ্জের দিকে চোখ রাখার কথা জানিয়ে এই টাইগার পেসার বলেন, ‘ভবিষ্যতেও এভাবে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যেতে চাই। সামনে ঘরের মাঠে আমাদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনেও আমরা টেস্ট সিরিজ খেলতে যাব। এখন আমি সেই নতুন চ্যালেঞ্জগুলোর দিকেই চোখ রাখছি।’