হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা ইয়েমেনি বাহিনীর, সানা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার

ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে রাজধানী সানা পুনর্দখলের লক্ষ্যে বিশাল পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সমর্থিত যৌথ বাহিনী। সৌদি আরবের সহায়তায় শুরু হওয়া এই নতুন অভিযানের ফলে তাইজ, আল-বায়দা ও আল-জাওফসহ কয়েকটি প্রদেশে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী ও তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর-জেনারেল সামির আল-সাবরি জানান, সরকার চূড়ান্তভাবে ‘সানা পুনরুদ্ধার’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল-নুজাইলি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মারিব, নিহম ও আল-জাওফের সঙ্গে সানাকে যুক্তকারী প্রধান সড়কগুলো এড়িয়ে চলার আকস্মিক সতর্কতা জারি করেছেন।

এদিকে সংঘাত চলাকালীন আল-জাওফের আল-হাজম শহরের একটি কারাগারে বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে হুথিরা। এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে কঠিন প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

পাল্টা জবাবে রিয়াদ অভিযোগ করেছে, সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলীয় সৌদি প্রদেশে হুথিদের হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন, যার জন্য হুথিদের চড়া মূল্য দিতে হবে।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটাই ইয়েমেনের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান সংক্রান্ত বৈশ্বিক উত্তেজনার জেরে এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেস্তে যায়। গত সপ্তাহে লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালি ও আল-মাখা বন্দরের দিকে হুথিরা আগ্রাসন শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) তথ্য মতে, গত ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৭২৮ জন নিহত বা আহত হয়েছেন। যার মধ্যে শুধু তাইজ প্রদেশ থেকেই অন্তত ২১ হাজার মানুষ (প্রায় তিন হাজার পরিবার) গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতেও তাইজ ও আল-জাওফের হুথি ঘাঁটিতে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থিত জোট।

ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রশাদ আল-আলিমি এক বিবৃতিতে সেনা সদস্যদের সফলতার প্রশংসা করে বলেছেন, পুরো ইয়েমেনি ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর এই সাংবিধানিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *