হাসানের পেস আগুনে পুড়ে থামল আফগানিস্তান, বড় লিড বাংলাদেশের

হাসান মাহমুদের কল্যাণে তৃতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য হলো অন্ধকারভেদ করে সূর্যের আলো উঁকি দেওয়ার মতো। আগের দিনের হতাশা ঝেড়ে বাংলাদেশ এদিন স্বরূপে ফিরল। ইতিহাস গড়া বোলিংয়ে স্বাগতিক আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইন যেন একাই ধসিয়ে দিলেন হাসান। তার ইতিহাস গড়া বোলিং আর এবাদত হোসেনের আগ্রাসনের বাংলাদেশকে ভয় দেখানো আফগানরা থেমেছে আড়াইশ রান পার করার আগেই। বড় লিড নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) আবুধবাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৮৯.১ ওভার ব্যাট করে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান তুলেছে আফগানিস্তান। এর আগে বাংলাতেশ করেছিলে ৩৪৬ রান। ফলে ১০৬ রানের বড় লিড নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।

৬ উইকেট হাতে রেখে ২১১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছিল আফগানিস্তান। তবে তৃতীয় দিনটা তাদের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। দিনের শুরুতেই টাইগার পেসারদের তোপের মুখে পড়েন আফগান ব্যাটাররা। সেটি সামাল দিয়ে আর বেশি দূর যেতে পারেননি তারা। তৃতীয় দিন মাত্র ২৯ রান তুলেই শেষ হয়েছে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।

তৃতীয় দিন দ্বিতীয় নতুন বল পেয়ে দুই পাশ থেকেই পেস আক্রমণ করছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সেটার সুফল পেতে খুব একটা দেরি হয়নি। তৃতীয় দিনের তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন এবাদত হোসেন। আফগান উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইকরাম আলীখিলকে ফিরিয়ে ভাঙেন ২১১ বলে ৮০ রানের জুটি। যেই জুটি গতকাল বাংলাদেশের মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছিল। ইকরাম ফেরেন ১০৩ বলে ৩২ রান করে।

এর পরের গল্পটা হাসান মাহমুদের। আগের দিন নিজের নামের প্রতি খুব একটা সুবিচার করতে পারেননি তিনি। মোটে একটি উইকেট নিতে পেরেছিলেন। তবে হাসান যেন সব তোলা রেখেছিলেন তৃতীয় দিন সকালের জন্য। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকের সঙ্গে তুলে নিয়েছেন ফাইফারও।

দিনের চতুর্থ আর ইনিংসের ৪৩তম ওভারে হাসান বল করতে আসলেন, বল করলেন আর জয় করলেন– গল্পটা এভাবেও বলা যায়। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ আর পঞ্চম টানা তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিলেন হাসান। গড়লেন ইতিহাসও। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক এখন হাসানের নামের পাশে। রানের খাতা খোলার আগেই ফেরান ইসমাত আলম, কাইস আহমেদ আর জিয়া-উর-রহমানকে।

শুধু হ্যাটট্রিকই আফগানদের পরের টানা চারটি উইকেটই নিজের ঝুলিতে পুড়েন হাসান। ইনিংসের ৮৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ফেরা ইয়ামিন আহমাদজাইকে। তাকেও রানের খাতা খুলতে দেননি। আফগান এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ফাইফার তুলে নেন হাসান। টেস্টে এটি তার চতুর্থ ফাইফার।

হাসানের আগ্রাসন শেষে আফগানিস্তানের বাকি উইকেটটি তুলে এবাদত। শেষ ব্যাটার হিসেবে ফেরান মোহাম্মদ সালিমকে। বাকিদের যাওয়া-আসার ভীড়েও একপ্রান্ত আগলে রেখে স্বাগতিকদের হয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন অধিনায়ক রহমত শাহ। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিও। শেস পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ২১৬ বল থেকে ১০৫ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬/১০ (তামিম ৮৩, সাদমান ৬৭, মুমিনুল ৩৯, শান্ত ২৯, মুশফিক ০, লিটন ৫৩, মিরাজ ২৪, হাসান ২, তাইজুল ৯, এবাদত ০, নাঈম ৩৫*; আহমাদজাই ২০.৩-৩-৭৯-৩, সালিম ২৩-২-৮২-৪, হাশমতুল্লাহ ৩-০-২৪-০, ইসমাত ১২.৪-৫-২০-২, জিয়া-উর-রহমান ১৯-১-৭৭-০, কাইস ১৪.২-১-৬০-১)

আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস :  ৮৯.১ ওভারে ২৪০/১০ (অটল ১৭, আব্দুল মালিক ৬২, শাহিদুল্লাহ ২০, হাশমতুল্লাহ ০, ইকরাম ৩২, ইসমাত ০, কাইস ০, জিয়া-উর-রহমান ০, ইয়ামিন ০, সালিম ০, রহমত ১০৫* ; হাসান ২১-৫-৫৫-৫, এবাদত ১৫.১-৩-৫৬-৪, মিরাজ ২১-৭-৪১-১, তাইজুল ২১-৪-৪৪-০, নাঈম ১০-০-৩৭-০, মুমিনুল ১-০-৬-০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *