হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানে আবারো মার্কিন হামলা, পাল্টা হামলার দাবি আইআরজিসির

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত তীব্র হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা হবে, তবে এর জন্য ২০ শতাংশ ফি নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে সোমবার রাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হয়। হামলার আগে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ইরানকে আরও কঠোরভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

হামলার পর ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, বন্দর আব্বাস, কিশ, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া বুশেহর প্রদেশের জাম শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেলেও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এর মাধ্যমে কংগ্রেসের নতুন অনুমোদন ছাড়াই আরও ৬০ দিন সামরিক অভিযান পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে দুটি “অপরাধী” তেলবাহী সুপারট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, জাহাজ দুটি যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় ওমানের জলসীমা দিয়ে চলাচল করছিল এবং নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। সতর্কবার্তা অমান্য করায় সেগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে আইআরজিসি।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানায়, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। দুটি জাহাজেই আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, বাহরাইনের আল-জুফায়ের ঘাঁটিতে অস্ত্রের গুদাম, স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র এবং মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের সব আকাশপথের হামলা প্রতিহত করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৯৮ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৭৯ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *