সরকারের ১০০ দিনে মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের ১০০ দিন পূর্ণ করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সরকারের অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের জীবনমানে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে মাহদী আমিন সরকারের ১০০ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাফল্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ড. মাহদী আমিন দাবি করেছেন, সরকার গঠনের পর এত স্বল্প সময়ে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

মাহদী আমিন বলেন, গুম-খুন, হামলা-মামলা এবং দমন-পীড়নের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার প্রতিফলন গত ১০০ দিনের উদার ও সহিষ্ণুতার নতুন মানদণ্ডে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে। অন্যদিকে, বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষোদগারের যে রাজনীতি একটি গোষ্ঠীর অপকৌশলে পরিণত হয়েছে, সেই চর্চা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র ১০০ দিনের পথচলাতেই দেশের নানা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান, সুস্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একইসঙ্গে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতায়ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার এক নতুন, দৃঢ় ও ইতিবাচক মেলবন্ধন।

মাহদী আমিন আরও বলেন, গৃহীত বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শৃঙ্খলা। সরকারের রূপকল্পে দেশের ২০ কোটি মানুষ যদি একসঙ্গে কাজ করে, তরুণ ও নারীরা যদি ক্ষমতায়িত হন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা অবশ্যই একটি মর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র সুসংহত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল এমন নীতিগত সহায়তা দেওয়া, যেখানে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক বৈষম্যহীনভাবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবেন এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে পারবেন।

তার ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক পথচলায় শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, এই সম্মিলিত শক্তিই দেশের অগ্রগতির মূল ভিত্তি। এই কারণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের পথ পেরিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দশক পর আবার সরকার গঠন করে দলটি।

সরকারের ১০০ দিনের কর্মসূচিকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এই বিষয়ে এতটুকুই বলব, প্রথম ১০০ দিনে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর যে দ্রুত দৃশ্যমান এবং কার্যকরী বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, খুব স্বল্প সময়ে তাতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে, সমস্যার সমাধান হচ্ছে। খেটে খাওয়া প্রান্তিক তৃণমূলের মানুষ আরও বেশি স্বাবলম্বী, স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন।

হামের টিকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিদেশ থেকে হামের টিকা এনে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে হামের টিকার মতো সংকট আর তৈরি না হয়, বর্তমান সরকারের সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিন সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দেশবাসীকে আগাম ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) ও শাহাদাত হোসেন স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব আশরোফা ইমদাদ, মো. নজমুল হক খান ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *