সম্পত্তির বিরোধে হত্যা, ২ বছর পর মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় দীর্ঘ দুই বছর পর মা ও শিশু ছেলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের হত্যা করে মরদেহ পুকুরে মাটিচাপা দেওয়া হয়। মাটি খুঁড়ে তাদের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে ও এক নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের জয়াগ গ্রামের আবু আমিনের বাড়ির পুকুরে ভেকু মেশিন দিয়ে খননকাজ চালিয়ে কঙ্কালগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলো নিহত কমলা বেগম (৩২) ও তার ছেলে মো. নোমানের (৯) বলে নিশ্চিত করেছে সিআইডি। নিহত কমলা বেগম ওই এলাকার আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কমলা বেগম ও তার শিশু ছেলে নিখোঁজ হয়।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাইছুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা হয়। পরে সোনাইমুড়ী থানায় একটি জিআর মামলা হয়। সেই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গোপন করতে মা-ছেলেকে বিবস্ত্র অবস্থায় বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাটিচাপা দিয়ে রাখে তা। সে সময় শুকনো মৌসুম থাকায় সহজেই পুকুরের তলদেশে মরদেহ চাপা দেওয়া সম্ভব হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধার হওয়া কঙ্কাল ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। কঙ্কাল উদ্ধারের সময় এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *