বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের এমন হতাশাজনক সমাপ্তির পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ম্যাচটি আবার আয়োজনের দাবিতে ভক্তদের একটি অনলাইন পিটিশনও বেশ আলোড়ন তুলেছে। আর এসব বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফসি) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া।
ফাইনালে স্লোভাকিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে জিসেলা সানচেজ নামের এক ভক্ত ‘চেঞ্জ ডট ওআরজি’তে ম্যাচটি পুনরায় খেলার একটি পিটিশন শুরু করেন। শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৯৬ হাজার স্বাক্ষর জমা পড়েছে সেই পিটিশনে।
তবে এসব আবেদন ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলে না। কোচ লিওনেল স্কালোনির পর এবার খোদ এএফএ সভাপতি তাপিয়াও রেফারিং নিয়ে সব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠে স্পেনই ভালো খেলে জিতেছে।
ভক্তদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ক্লদিও তাপিয়া বলেন, ‘আমরা স্পেনকে টপকাতে পারিনি, তাদের হারাতেও পারিনি। তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে এবং ন্যায্যভাবেই জিতেছে। আমাদের এই সত্যটা মেনে নিতে হবে।’
পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘খেলাধুলায় জয়ের আনন্দ যেভাবে উদযাপন করতে হয়, ঠিক তেমনি মাথা উঁচু করে হার মেনে নেওয়াটাও একটা বড় গুণ। আমরা ফাইনালে হেরেছি ঠিকই, কিন্তু এই দলটাই দেশের মানুষকে অনেক বড় আনন্দের মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।’
ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাপিয়া বলেন, ‘এক মুহূর্তের জন্য থামুন। আমাদের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং তাদের পরিবারগুলোর আত্মত্যাগের কথা ভাবুন। যারা দেশের জার্সির টানে ৫০ দিনেরও বেশি সময় পরিবারের থেকে দূরে থেকেছেন, শুধু একটাই লক্ষ্য নিয়ে—আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করা।’
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এএফএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা রক্তে-মাংসে আর্জেন্টাইন। আমরা বুক চিতিয়ে, আবেগ আর হৃদয় দিয়ে লড়ি। তাই কোনো মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফাঁদে পা দেবেন না, যা আমাদের দলটাকে অস্থিতিশীল করতে চায়।’
ষড়যন্ত্রে কান না দিয়ে দলকে সমর্থন করার অনুরোধ জানিয়ে তাপিয়া বলেন, ‘যারা আমাদের ফুটবলের জন্য এত কিছু দিয়েছেন, দয়া করে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর চেষ্টা বন্ধ করুন। বিতর্ক বা ষড়যন্ত্র তো আসবে-যাবে, কিন্তু দেশের জার্সির প্রতি এই দলের ভালোবাসা আর লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি চিরকাল থেকে যাবে।’