শুকরিয়া আদায় করে ছাত্র-জনতাকে শান্ত করেন খালেদা জিয়া

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় অসন্তোষ ও উত্তেজনা। সেই প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি শান্ত করা এবং ক্ষোভ প্রশমনের লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে মুক্তির পরদিন ৭ আগস্ট দেশবাসীদের উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, ধ্বংস নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্র-তরুণদের সংগ্রামে আমাদের নতুন বিজয় এসেছে। এবার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে। ছাত্র-তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। আসুন ছাত্র-তরুণদের হাত শক্তিশালী করি। ধ্বংস নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার পদত্যাগে বাধ্য করা সবাইকে ধন্যবাদ জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ফ্যাসিবাদী সরকারের কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের বীর সন্তানদের। যারা মরণপ্রাণ সংগ্রাম করে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। শত শত শহীদদের আমি জানাই শ্রদ্ধা। এ বিজয় আমাদের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, প্রতিশোধের মানসিকতা না রেখে সবাই মিলে দেশ গড়তে হবে। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্যের শুরুতেই খালেদা জিয়া বলেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আমি আপনারে সামনে বক্তব্য দিতে পেরে আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় আপনারা যারা আমার মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন দোয়া করেছেন, সে জন্য আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের নজিরবিহীন দুর্নীতি, গণতন্ত্র ধ্বংসের স্তূপের মধ্য থেকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ছাত্র-তরুণরাই আমাদের ভবিষৎ। কারণ তরুণরা যে স্বপ্ন নিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেধা যোগ্যতার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, শোষণহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সকল ধর্ম গোত্রের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শান্তি প্রগতি সাম্যের ভিত্তিতে আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণ করি। ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা ও শান্তির সমাজ গড়ে তুলি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। মৃত্যুকালে দেশের জনপ্রিয় এই নেত্রীর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *