শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বন্ধে রেগুলেশন থাকা উচিত: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে একটি ‘রেগুলেশন’ বা আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা শিক্ষকতার পেশায় থাকবেন আর নির্বাচনে গেলে তারা রাজনীতির পেশায় যাবেন- দু’টি একসঙ্গে চললে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

এর আগে বাংলাদেশে ‘জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্টের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, এডিবি, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষকদের নির্বাচনমুখী হওয়া প্রসঙ্গে নিজস্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৪ হাজারের বেশি চেয়ারম্যান পদ এবং ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নেন। এতে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্বাচন কমিশনের এমন একটি ফ্রি রেগুলেশন বা নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত; যেন শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে না যান। যেতে হলে তারা যেন চাকরি ছেড়ে দিয়ে যান। শিক্ষকদের পেছনে রাষ্ট্র যে বিনিয়োগ ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছে, তা যেন দেশের সুন্দর জাতি গঠনে প্রপারলি (সঠিকভাবে) কাজে লাগে।’

প্রাথমিকের সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের মামলা প্রসঙ্গে ড. মিলন বলেন, ‘বিষয়টি আদালতের আপিল বিভাগের নজরে এসেছে এবং তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কোর্টের আদেশটি এখনো আমাদের হাতে আসেনি। এ বিষয়ে আমরা আজ বিস্তারিত জানাব।‘

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার মিলে মোট ৯৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রান্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ইমানুয়েল আব্রিউ, ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, এডিবি’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি (অফিসার ইনচার্জ) আকিরা মাতসুনাগা এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনের হিউম্যান ক্যাপিটাল টিমের লিডার গোলাম কিবরিয়াসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসস

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *