রামিসা হত্যা নিয়ে সংসদে আইনমন্ত্রী

‘ফাঁসিতে সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যু জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হবে’

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যার বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মাও সেতুংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তি আছে—কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে আর যদি এই ফাঁসির আসামিদেরকে আমরা ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।

আজ রোববার (৭ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১৯ মে ঢাকা শহরের পল্লবী এলাকায় একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা ঘটে। আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এ ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে আমাদের পুলিশ বাহিনী দুজন মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সেখানে সেই টিমে আমিও ছিলাম। আমরা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করি। ওইদিন ভিকটিমের বাবার একটি আহাজারি ছিল, উনি বিচার চান না। কারণ এদেশে এ ধরনের ঘটনার বিচার হবে না। আমরা আশ্বস্ত করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন—এ ঘটনার বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী পাঁচ দিনের মাথায় সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ঘটনার প্রতিবেদন দাখিল করেছিল। ঈদের আগে ২৪ মে দুপুর ১২ টার সময় চার্জশিট দেয় পুলিশ। ওইদিন ৪টার মধ্যে সেই চার্জশিট আমরা সিএমএম কোর্ট থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালে নিয়ে যাই। আমাদের সামনে একটা সংখ্যা ছিল, সেটা হলো বাংলাদেশের আদালতগুলো পহেলা জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা। আমরা প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করে বাংলাদেশের সব নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো ছুটির আওতা বহির্ভূত রাখতে সক্ষম হই।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ২৪ মে চার্জশিট পাওয়ার পরপরই আমরা যখন দেখেছি, আসামি পক্ষ কোনো আইনজীবী দেয়নি, আমরা আইনের বিধান মেনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের স্টেট ডিফেন্স লয়ার (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) দিতে সক্ষম হই। ঈদের ছুটির পরে পহেলা জুন আদালতে এই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন এই মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ৩ জুন এই মামলায় আসামি পক্ষ কোনো সাক্ষী দিতে চান কি না, সেজন্য দিন ধার্য রাখা হয়। ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করা হয়। ৫ ও ৬ জুন শুক্র-শনিবার থাকাতে ৭ জুন আজ রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল এবং রায় যথারীতি ঘোষিত হয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা রাষ্ট্রের প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সমস্ত সাক্ষ্য উপস্থাপন পূর্বক যে রায় প্রত্যাশা করেছিলাম, যে রায় প্রস্তাব করেছিলাম, যে রায় আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, আদালত সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদেশের অংশ ঘোষণা করেছেন। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুজন মূল আসামি সোহেল ও তার সহযোগী এবং স্ত্রীকে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। মাও সেতুংয়ের একটি ঐতিহাসিক উক্তি আছে—কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা। রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে আর যদি এই ফাঁসির আসামিদেরকে আমরা ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি।

আইনমন্ত্রী বলেন, এটুকুই ছিল আমাদের পক্ষ থেকে এই মহান জাতীয় সংসদ এবং জাতির কাছে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি। সেদিন আমরা বলেছিলাম, আমাদেরকে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন—রামিসার বাবা বিচার চান না। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য কি? আমরা বলেছিলাম, এর একমাত্র জবাব হবে তাকে সেই আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া। আজ ভিকটিমের বাবা বলেছেন, এই বিচারে উনি সন্তুষ্ট। আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, রামিসাসহ সম্প্রতি যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির মাধ্যমে আমরা তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা নিয়েছি এবং সেই গতিতে এগোচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *