রাজবাড়ী ডাকঘরের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, পোস্টমাস্টারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সমন

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পোস্টমাস্টারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভুক্তভোগীদের পক্ষে নাছরিন আক্তার রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতে মামলা করলে বিচারক মো. হায়দার আলী মামলাটি গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় লেটার রাইটার শিহাব মৃধা ডাকঘরে আসা গ্রাহকদের মেয়াদি সঞ্চয় হিসাব খোলার কথা বলে সাদা স্লিপে টাকা গ্রহণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫১ জনের বেশি গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, ট্রেজারার পবিত্র কুমার সরকার, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম, পোস্টাল অপারেটর মো. গোলাম মোস্তফা বাচ্চু, এস এম নুরুজ্জামান, আসমা আক্তার, প্যাকার-কাম-মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, পোস্টাল কর্মচারী নুরুল মাসুদ ও রোকসানা আক্তার।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে এসব অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। গ্রাহকরা সঞ্চয় হিসাবের বই না পাওয়ায় বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগের পর গত ১২ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তদন্তে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে আসেন। সে সময় অভিযোগের মূল অভিযুক্ত লেটার রাইটার শিহাব মৃধাকে ডাকঘরে পাওয়া গেলেও তাকে আটক করা হয়নি। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

এদিকে ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেলের (চলতি দায়িত্ব) নির্দেশে অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেলকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থের ক্ষতির কারণ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, ‘আমি গত ৬ জুলাই রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যোগদান করেছি। যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। বর্তমানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মামলার বাদী নাছরিন আক্তার বলেন, ‘অনেক গ্রাহক তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় নিরাপদ ভেবে ডাকঘরে জমা রেখেছিলেন। আমি নিজেও টিউশনির টাকা থেকে দুই লাখ টাকা জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের প্রায় অর্ধশত গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আমাদের অর্থ ফেরতের দাবিতে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি, মানববন্ধন করেছি। কোনো সমাধান না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। আমরা ন্যায়বিচার ও আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *