রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার করা আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো উপস্থিতি মেলেনি বলে প্রতিবেদন এসেছে তদন্তকারী সংস্থার কাছে। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী।
উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, গতকাল ৩০ আগস্ট রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ইউরিন নেওয়া হয়েছিল ডোপ টেস্টের জন্য। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগার থেকে ডোপ টেস্টের যে ফলাফল এসেছে তাতে মাদকের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, শুধু ইউরিন বা মূত্র পরীক্ষা করে মাদকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ কম। রক্ত, চুল, লালা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসব পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই বলেও তিনি জানান।
এদিকে রংপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু জাফর এনটিভি অনলাইনকে বলেন, মাদকের উপস্থিতি নিশ্চিত হতে গেলে মূত্র, রক্ত , চুল, লালা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আর দেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রসায়নিক পরীক্ষাগার রয়েছে, সেখানে এসব পরীক্ষা হয়ে থাকে।
উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গ্রেপ্তার করা আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য অনুযায়ী পুলিশ এই স্পর্শকাতর চার হত্যাকাণ্ডের মোটিভ মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছিল। ডোপ টেস্টের ফলাফলের পর এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা অন্য কিছু ইঙ্গিত করছে, যা হয়তো দ্রুত বের হয়ে আসবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই কর্মকর্তা বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজে মাদকের উপস্থিতি রক্ত, লালা বা চুলে আছে কিনা তা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এজন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে অন্যান্য পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট রসায়নগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন যেসব আলামত বা নমুনা সংগ্রহ করেছিল তা ডিএনএ টেস্টের জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট শনিবার রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রাপ্তি ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী পিওমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর পুলিশের দেওয়া বক্তব্যে মাদক সেবনের বিষয় ও এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দুজন জড়িত—এমন বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন মামলার বাদী ও নিহত শিক্ষক গণপতির বড়ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী।
এদিকে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), নিহত শিক্ষকের সাবেক কর্মস্থল জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলন করে আসছে। অনেকের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার করা দুজনে এত বড় রোমহর্ষক ঘটনা ঘটাতে পারে না, এর পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়ে আসছে তারা।