যে মন্ত্রে অস্ট্রেলিয়াকে ধরাশায়ী করলেন ইতিহাস গড়া হাসান

কোনো জাদু নেই, নেই বোলিংয়ের বাহারি কৌশল। শুধু নিখুঁত লাইন, লেংথ আর ধারাবাহিকতা- ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে এই কৌশল মেনেই গুড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। তার ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ১৯৮ রানে। 

মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে হাসান ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেছেন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫৩ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

হাসানের জন্য এটি ছিল ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। একই সঙ্গে তিনি গড়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি ঐতিহাসিক নজিরও। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার এখন তিনি।

তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে তার স্পেলের মাহাত্ম্য বোঝানো যাবে না। তার ৬ উইকেট শিকারের পেছনে ছিল অবিশ্বাস্য রকমের ধারাবাহিক পরিকল্পনা। বারবার অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের অফ-স্টাম্পের আশপাশ দিয়ে বল করে বিপদে ফেলেছেন। ধারাবাহিক সেই চাপ থেকেই ভুল করেছেন অজি ব্যাটাররা।

প্রথম শিকার হন জেক ওয়েদারাল্ড। অফ-স্টাম্পের অনেক বাইরের ডেলিভারিতে ব্যাট লাগিয়ে ক্যাচ দেন লিটন দাসের হাতে। এরপর ট্রাভিস হেড; অফ-স্টাম্পের বাইরে লেংথ বল ভেতরের দিকে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে স্টাম্পে গিয়ে আঘাত করে। পরে প্যাট কামিন্সও একই ফাঁদে পা দেন। অফ-স্টাম্পের বাইরে লেংথ বল কাট করতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর মিচেল স্টার্ক; তার শরীর থেকে দূরে অ্যাঙ্গেল করে যাওয়া ফুলার লেংথের বল খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগে। বল চলে যায় উইকেটের পেছনে।

অস্ট্রেলিয়া যখন ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে, তখনও পরিকল্পনা বদলাননি হাসান। শুধু পরিস্থিতি অনুযায়ী লেংথে সামান্য পরিবর্তন এনেছেন।

স্টিভ স্মিথ ছোট লেংথের বল চার্জ করে খেলতে গিয়ে পুল শট ঠিকমতো করতে পারেননি। হাসানের শিকার হয়েছেন। এরপর শেষ উইকেটে নাথান লায়নও একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে টপ-এজ হলে, বল চলে যায় মিডউইকেটে। তাতে বোঝাই যাচ্ছে ছয় উইকেট—কিন্তু ছয় রকমের পরিকল্পনা নয়। শুধু লাইন, লেংথ এবং ধারাবাহিকতা।

তাই মাঠ ছাড়ার সময় অভিবাদন পেয়েছেন ২৬ বছর বয়সী হাসান। পরে ফক্স ক্রিকেটের অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে পেরে আমি খুবই রোমাঞ্চিত ছিলাম, কারণ তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। এই কন্ডিশনে খেলার সুযোগ পাওয়াটাও দারুণ ব্যাপার। আমি শুধু লাইন ও লেংথ মেনে বল করার চেষ্টা করেছি। প্রক্রিয়াটা ধরে রেখেছি এবং অধিনায়ক যা বলছিলেন, সেটাই অনুসরণ করেছি।’

পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, তার সেই সহজ পরিকল্পনা কতটা কার্যকর ছিল।

হাসানের ৬/৫৫ টেস্ট ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ফাস্ট বোলারের তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের আগের সেরা বোলিংকেও তিনি পেছনে ফেলেছেন। 

এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং করেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ৭৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *