মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। তিনি দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) শতখালী বাজারের জব্বারের ইলেকট্রিক দোকান থেকে আজগার, ওবায়দুর, গোপাল ও জব্বারসহ চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ ওঠে মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে। এরা সবাই যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী বলে জানা গেছে।
এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় বিএনপির নিতাই রায় গ্রুপ এবং নয়ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক জসীম উদ্দীনের ওপর হামলা চালানো হয়।
আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছে সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও মিন্টুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী সিদ্দিকুর রহমান, ওয়াদুদ বিশ্বাস ও আসিফ শিকদারের বাগ্বিতণ্ডা চলতে দেখেন। এ সময় তিনি মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে রেখে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মুঠোফোন বের করে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন।
জসীম উদ্দীনের অভিযোগ, ভিডিও ধারণ করতে দেখেই মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শালিখায় কর্মরত সাংবাদিকেরা।
তাঁরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এটি শুধু একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। অবিলম্বে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তাঁর দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপের পক্ষ হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।